শীতকালজুড়ে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে ফ্লু থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়- এমন আশাবাদ মিলেছে একটি নতুন গবেষণায়। যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যাদের শরীরে ভিটামিন ডির তীব্র ঘাটতি রয়েছে, তাদের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ৩৩ শতাংশ বেশি।
আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিকেল নিউট্রিশনে প্রকাশিত গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলেন, ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তির হার উল্লেখ্যযোগ্য হারে কমানো যায়। যেসব জাতিগত জনগোষ্ঠীতে ভিটামিন ডি ঘাটতির হার বেশি, সেখানে প্রতিরোধমূলক এ তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
সানশাইন ভিটামিন (সূর্যালোক ভিটামিন) নামে পরিচিত ভিটামিন ডি একমাত্র সাপ্লিমেন্ট যেটা শরৎ ও শীতকালে দৈনিক গ্রহণের জন্য এনএইচএস সবার জন্য সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া এক থেকে চার বছরে শিশু এবং গাঢ় ত্বকের মানুষসহ উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সারা বছরই এটি গ্রহণ উচিত। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে। ফলে হাড়, দাঁত ও পেশি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না থাকলে অস্টিওমালেশিয়া (হাড়ের ব্যথা) হওয়ার ঝুঁকি থাকার পাশাপাশি ফ্লুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংক্রমণও হতে পারে। এ ধরনের সবচেয়ে বড় গবেষণায় ইউনিভার্সিটি অব সারের নেতৃত্বে গবেষকরা ইউকে বায়োব্যাংকের ৩৬ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তারা ভিটামিন ডির মাত্রা এবং ফ্লু, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিসসহ বিভিন্ন ভাইরাল ও ব্যাকেটিয়াল শ্বাসতন্ত্রের রোগে হাসপাতালে ভর্তির সম্পর্ক খুঁজে পান। আগে ভিটামিন ডি কোভিড সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারে- এমন প্রতিবেদন ছিল তবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ভিটামিন ডির সাথে কোভিড-১৯ ভাইরাসের কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাননি।
গবেষণায় যাদের রক্তে ভিটামিন ডির মাত্রা ১৫ এনএম০১/এল-এর নিচে, তাদের এ ধরনের সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি ৭৫ এনএম০১/এল বা এর বেশি মাত্রা থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। রক্তে ভিটামিন ডি প্রতি ১০ এনএম০১/এল বেড়ে গেলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তির হার শতাংশ কমে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে অন্তর্ভুুক্ত ২৭ হাজার ৮৭২ জনের মধ্যে দুই হাজার ২৫৫ জন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি হন। বয়স্কদের মধ্যে এ সংক্রমণের হার বেশি। ৫০ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ব্রংকাইটিস বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর শীর্ষ ২০ কারণে অন্যতম আর ৭৫ বছরের মানুষের মধ্যে মৃত্যুর শীর্ষ ১০ কারণের মধ্যে উঠে এসেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক ও পুষ্টি বিষয়ক ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞ অ্যাবি বুরনাউট বলেন, ভিটামিন ডি আমাদের শারীরিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। এটি শুধু হাড় ও পেশি সুস্থ রাখে না, এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো মাত্রায় ভিটামিন ডি ঘাটতিতে ভুগছেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রায় পাঁচ জনের একজন এ ভিটামিনের ঘাটতিতে আক্রান্ত। ভিটামিন ডির প্রধান প্রাকৃতিক উৎস সূর্যালোক এবং খাবারে মধ্যে তৈলাক্ত মাছ, লাল গোশত ও ডিমের কুসুম।
গবেষকরা বলেন, বিশেষ করে শীতকালে সূর্যালোক কম থাকায় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ ভিটামিন ডি বাড়ানোর কার্যকর উপায় যা গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তিরাও ভিটামনি ডি ঘাটতিতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাপ্লিমেন্ট উপকারী হলেও পর্যাপ্ত সূর্যালোক গ্রহণ ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই ভিটামিন ডির সেরা উৎস। তবু যারা পায় পায় না তাদের জন্য এ পরামর্শ।
ডেইলি মেইলে এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে গত ২১ জানুয়ারি।



