মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী
দুলাভাই শালীর হাতে চিমটি মারে, শালী ওয়াশরুমে গেলে দুলাভাই ওয়াশরুমের লাইট বন্ধ করে দেয়, শালী চিৎকার করলে আবার দুলাভাই লাইট চালু করে, আরো কত কিছু করে। নদীর ওপরে নৌকায় বসে ঘুরে বেড়ায় আর শালী তার দুলাভাইকে গান শুনায়। গান শুনে দুলাভাই হাততালি মারে এবং কত আনন্দ ফুর্তি করে। শালী দুলাভাই বিভিন্ন পার্কে যায় ও বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বসে গল্প করে ও কত দুষ্টুমি করে। এভাবে একসময় দুলাভাই শালীদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে ও বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল কাজ করে। অনেক শালী দুলাভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকে। শালী দুলাভাই অশ্লীলতার মধ্যে ডুবে গুনাহের মধ্যে লিপ্ত আছে। শালী দুলাভাইয়ের এসব অবৈধ সম্পর্ক অন্যায় ও নিষেধ। এটি ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। একটি হাদিসে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সা: বলেছেন, ‘চোখের ব্যভিচার হলো দেখা, কানের ব্যভিচার শোনা, জিহ্বার ব্যভিচার বলা, হাতের ব্যভিচার ধরা, পায়ের ব্যভিচার হাঁটা, মন কামনা করে আর লজ্জাস্থান তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে।’ (মুসলিম-২৬৫৭) শালী দুলাভাই যা কিছু করছে- সবগুলো অন্যায়, তারা জেনা ও ভয়ঙ্কর অপরাধ করছে। আল্লাহ বলেন, তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হইও না। এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ। (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত নম্বর : ৩২) শালী দুলাভাইয়ের পরকীয়া ও অশ্লীল কাজ কোনোভাবে কাম্য নয়। শালী দুলাভাইয়ের হাসাহাসি ও দুষ্টামি কোনোভাবে কাম্য নয়। শালী দুলাভাইয়ের কাছে যাওয়া ঠিক নয় এবং দুলাভাইয়ের সামনে পর্দা করতে হবে। পর্দা হলো ইসলামের সৌন্দর্য। পর্দায় নারীদেরকে অশ্লীলতা ও গুনাহ থেকে রক্ষা করে। একটি হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ রা: থেকে বর্ণিত- প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ সা: বলেন, ‘নারী পর্দাবৃত থাকার বস্তু। যখন সে পর্দাহীন হয়ে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়।’ (তিরমিজি-১১৭৩) মেয়ের বাবা-মাকে অবশ্য সচেতন হতে হবে, যেন তার মেয়ে তার দুলাভাইয়ের সামনে না যায়, না মিশে। সামাজিকভাবে অবশ্য সবাইকে এ বিষয় সচেতন হতে হবে। সচেতন না হলে সামনে আরো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটতে পারে। দৈনিক পত্রিকা থেকে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে বিয়ের মাত্র সাত দিনের মাথায় দুলাভাইয়ের সাথে শালী পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, নববধূর সাথে শ্বশুরবাড়ি থেকে উপহার হিসেবে দেয়া প্রায় তিন ভরি স্বর্ণও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনাটি ঘটেছে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের নেংটিহারা গ্রামে। ইসলামিক শিক্ষা ও পারিবারিক শিক্ষা না থাকার কারণে এই ধরনের ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। শালী দুলাভাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বাধা সৃষ্টি করতে হবে, শালীকে দুলাভাইয়ের সাথে কোনোভাবেই মিশতে দেয়া যাবে না। আল্লাহ বলেন- ‘প্রকাশ্যে হোক কিংবা গোপনে হোক, অশ্লীল আচরণের নিকটবর্তী হয়ো না।’ (সূরা আনআম, আয়াত-১৫১) অবশ্য শালী দুলাভাই অন্তর থেকে আল্লাহকে ভয় করতে হবে, তাহলে এসব অন্যায় কাজ মনের মধ্যে আসবে না। আল্লাহ বলেন- ‘তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো।’ (সূরা তাগাবুন, আয়াত-১৬) অন্য এক জায়গা আল্লাহ বলেন- ‘মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।’ (সুরা আন নুর, আয়াত-৩০)
লেখক : আলেম, গবেষক



