উত্তর ইউরোপে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা এর লক্ষ্য : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

আর্কটিকে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা ব্রিটেনের

Printed Edition
কিয়ার স্টারমার
কিয়ার স্টারমার

বিবিসি

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দিয়েছেন, ব্রিটেন এ বছর আর্কটিক অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে। মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ইউরোপকে এখন প্রস্তুত থাকতে হবে- নিজেদের জনগণ, মূল্যবোধ ও জীবনধারা রক্ষায় প্রয়োজনে লড়াই করতে হবে।

স্টারমার জানিয়েছেন, ব্রিটেনের বিমানবাহী রণতরী এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। এতে সেনাবাহিনীর তিন বাহিনীর হাজারো সদস্য অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের সাথে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালিত হবে।

এই মোতায়েনের মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি আরো দৃঢ় হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলতে থাকায় আর্কটিক এখন কৌশলগতভাবে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক কার্যক্রম পশ্চিমা শক্তিগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্টারমার বলেন, উত্তর ইউরোপে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় এই মোতায়েন একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। তার ভাষায়, ‘আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে, প্রয়োজনে লড়াই করতে হবে।’ তিনি আরো উল্লেখ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার আগ্রাসী অবস্থান ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিউনিখে দেয়া বক্তব্যে তিনি ন্যাটোর প্রতি ব্রিটেনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। স্টারমার বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্রিটেন সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যাটো মিত্রদের সাথে সমন্বয় করে আর্কটিকে মোতায়েন করা হবে, যা পশ্চিমা শক্তির ঐক্য ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রতীক।

আর্কটিক অঞ্চল দীর্ঘ দিন ধরেই ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু। বরফ গলার ফলে নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হচ্ছে, যা বাণিজ্য ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এর জবাবে ব্রিটেন ও ন্যাটো মিত্ররা যৌথভাবে শক্তি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে।

আর্কটিকে ব্রিটেনের যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের এই ঘোষণা ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে পশ্চিমা শক্তির দৃঢ় সঙ্কল্পের প্রতিফলন। একইসাথে আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো ভবিষ্যতের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।