পীর-আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট থেকে আগামী ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার মতো তিনিও সিলেট থেকেই মাঠে নামছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ২২ জানুয়ারি সকালে তারেক রহমান হযরত শাহজালাল (রহ:) ও খাদিমনগরের হজরত শাহ পরাণ (রহ:)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণার সূচনা করবেন। এরপর বেলা ১১টায় সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম জনসভা। এই জনসভায় বিএনপির আট দফা নির্বাচনী অঙ্গীকারকে সামনে রেখে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরবেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিলেট আমাদের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূতিকাগার। সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও এখান থেকেই নির্বাচনী যাত্রা শুরু করছেন।
২১ বছর পর সিলেট সফর : প্রায় দুই যুগ পর সিলেট সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। সর্বশেষ ২০০৫ সালে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সিলেটে দলীয় সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে এটি তার প্রথম সফর। সিলেটবাসী তাকে বরণ করতে মুখিয়ে আছে।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কজুড়ে পথসভা : সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ধরে ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
যে আট দফা অঙ্গীকারে জোর দেবেন : নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান ‘পরিবর্তনের রাজনীতি’র আলোকে বিএনপির ৮ খাতভিত্তিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে-
ফ্যামিলি কার্ড : প্রতিটি পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু। এর মাধ্যমে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা সমমূল্যের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যাবে। সঞ্চয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে নারীর ক্ষমতায়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোগকে উৎসাহ দেয়া হবে।
কৃষক কার্ড : কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করে স্বল্পমূল্যে সার, উন্নত বীজ, কৃষিপ্রযুক্তি, সহজ ঋণ ও বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে। এতে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় বাড়বে, খাদ্যনিরাপত্তা আরো মজবুত হবে।
স্বাস্থ্যসেবা : প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্তত ১ লাখ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী।
শিক্ষা : মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, চাহিদাভিত্তিক ও দক্ষতা-প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব। প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার, শিক্ষকদের আর্থিক ও পেশাগত সুরক্ষা এবং শিল্পখাতের সাথে শিক্ষার বাস্তব সংযোগ নিশ্চিত করা হবে।
ক্রীড়া : খেলাধুলাকে শখের পাশাপাশি পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে স্কুল-কলেজে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে। পর্যাপ্ত ক্রীড়া শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নতুন প্রতিভা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে।
পরিবেশ : নবায়নযোগ্য শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং সম্প্রসারণের পাশাপাশি ২৫ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেয়া হবে।
কর্মসংস্থান : এসএমই, ব্লু ইকোনমি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আইসিটি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও স্টার্টআপ খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা হবে।
ধর্মীয় নেতাদের সম্মানি : ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানি চালু এবং ধর্মীয় উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ প্রসঙ্গে বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, তরুণরা বেকার। বিএনপি কথার রাজনীতি নয়, কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। এই আট দফা কর্মপরিকল্পনা নিয়েই আমরা জনগণের সামনে যাচ্ছি।



