‘শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা’র অভিযোগে জি২০ সম্মেলন বয়কট ট্রাম্পের

Printed Edition
হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে তোলা রয়টার্সের একটি ভিডিওর স্ক্রিনশট উপহার দিচ্ছেন, যেখানে এটিকে শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের গণহত্যার প্রমাণ হিসেবে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে (ফাইল ফটো) : ইন্টারনেট
হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে তোলা রয়টার্সের একটি ভিডিওর স্ক্রিনশট উপহার দিচ্ছেন, যেখানে এটিকে শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের গণহত্যার প্রমাণ হিসেবে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে (ফাইল ফটো) : ইন্টারনেট
  • ভূমি মালিকানায় বৈষম্য কমাতে আফ্রিকার নতুন আইন প্রস্তাব দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটায়
  • তিন দশকের বর্ণবৈষম্যের অবসানের পরও বেসরকারি মালিকানাধীন জমির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ শ্বেতাঙ্গদের দখলে

আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য জি২০ সম্মেলনে কোনো মার্কিন প্রতিনিধি অংশ নেবে না। তিনি দেশটিতে ‘শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা’ চলছে বলে দাবি করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিতব্য জি২০ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এ ঘোষণায় কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রুথ স্যোসালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা দক্ষিণ আফ্রিকায় পা রাখবে না, যেখানে শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের হত্যা করা হচ্ছে এবং সরকার তা উপেক্ষা করছে।’ তিনি আরো দাবি করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার কৃষকদের জমি কেড়ে নিচ্ছে এবং জাতিগত নিপীড়ন চালাচ্ছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে উত্তেজনা প্রথম বাড়তে শুরু করে যখন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানুয়ারি মাসে একটি নতুন আইন প্রস্তাব করেন, যার লক্ষ্য ছিল ভূমি মালিকানায় বৈষম্য কমানো। তিন দশকেরও বেশি সময় আগে বর্ণবৈষম্য শেষ হওয়ার পরও দক্ষিণ আফ্রিকায় বেসরকারি মালিকানাধীন মোট জমির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এখনো শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘুদের হাতে রয়েছে- এ বৈষম্য দূর করতেই নতুন আইনটি আনা হয়।

নতুন আইন অনুযায়ী সরকার আগের তুলনায় সহজে ভূমি অধিগ্রহণ করতে পারবে। রামাফোসা জোর দিয়ে বলেছেন, এটি কোনোভাবেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ নয়; বরং ন্যায়সঙ্গত ভূমি পুনর্বণ্টনের একটি কাঠামো তৈরি করা। এ আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে; যেমন কোনো ভূমি পরিত্যক্ত হয়ে থাকলে- সরকার ক্ষতিপূরণ ছাড়াই সেই জমি অধিগ্রহণ করতে পারবে।

রামাফোসা বলেন, ‘আমাদের দেশে কোনো জাতিগত গণহত্যা চলছে না। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার অপচেষ্টা।’ ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সফরও বাতিল করা হয়েছে। ফলে জি২০ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ তার নির্বাচনী ঘাঁটিকে সন্তুষ্ট করার কৌশল হতে পারে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমি সংস্কার নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষক হত্যার ঘটনা জাতিগত নয়, বরং সাধারণ অপরাধের অংশ।

এ ঘোষণার ফলে জি২০ সম্মেলনের কূটনৈতিক ভারসাম্য কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে দেশটিকে দূরে সরিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্মেলনের সার্বিক গুরুত্বকে ক্ষুণœ করবে না। জি২০-এর অন্যান্য সদস্য দেশ যেমন- ভারত, ব্রাজিল, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।