ছাত্রদলের প্রথম শহীদ বীরপ্রতীক এ টি এম খালেদের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মো: লিখন ইসলাম, বাকৃবি
Printed Edition

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে। পাথরের গায়ে খোদাই করা একটি নাম ‘বীর প্রতীক এ টি এম খালেদ’। এই নাম শুধু একজন ছাত্রের নয়, এটি একটি সময়ের দলিল, একটি আদর্শের প্রতীক এবং আত্মত্যাগে ঋদ্ধ এক ইতিহাস।

গাইবান্ধা জেলার কুপতলা ইউনিয়নের এক সাধারণ পরিবারে ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি জন্ম এ টি এম খালেদের। বাবা গোলাম মওলা প্রামাণিক ও মা রেজিয়া খাতুন। তিন ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। দুলু নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন পরিবার, বন্ধু ও সহযোদ্ধাদের কাছে।

১৯৬৮ সালে গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ভর্তি হন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনার্স প্রথম বর্ষের পড়ার সময় বই-খাতা ফেলে ঝাঁপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিযুদ্ধে।

১৯৭১ সালের ১ অক্টোবর সুবেদার আলতাফের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামের কোদালকাটির পাকিস্তানি অবস্থানে মুক্তিবাহিনীর একযোগে আক্রমণে একটি দলের নেতৃত্ব দেন। টানা কয়েক দিন যুদ্ধের পর ৩ অক্টোবর তিনি জীবনবাজি রেখে কলার ভেলায় নদী পার হয়ে শত্রু অবস্থানে ঢুকে তিনি ও তার সহযোদ্ধারা দেখেন, পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসররা পালিয়ে গেছে, ঘাঁটি ফাঁকা।

১৭ অক্টোবর চিলমারীতে আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধে তিনি কাজিউল ইসলামের সাথে একটি দলের নেতৃত্ব দেন। এই যুদ্ধে তিনি এক পাকিস্তানি সেনাকে জীবিত আটক করেন।

এই অসীম সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করে। যা তাকে দেশের সর্বকনিষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের একজন হিসেবে ইতিহাসে স্থায়ী আসন দেয়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩-৭৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (বাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। ফুটবল ও হকিতে অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য তিনি অর্জন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাপূর্ণ ‘ব্লু’ খেতাব।

এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এ টি এম খালেদ যুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে। জিয়াউর রহমান তাকে বাকৃতি শাখা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়কের দায়িত্ব দেন।

অনার্স শেষবর্ষের ছাত্রাবস্থায় ১৯৮০ সালের ১০ জানুয়ারি দিনগত রাতে, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় বীর প্রতীক এ টি এম খালেদ শাহাদাত বরণ করে হয়ে ওঠেন ছাত্রদলের ইতিহাসের প্রথম শহীদ।

গতকাল ছিল এই মহান বীরের ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী। এ উপলক্ষে সংস্কার কাজ শেষে তার স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন ও মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। এ সময় বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বীরপ্রতীক এ টি এম খালেদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার মুক্তিযুদ্ধকালীন ও পরবর্তী সময়ের কিছু স্মৃতিচারণ করেন।

এ সময় বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।