পরমতসহিষ্ণুতার বিএনপি বনাম ‘সংক্ষুব্ধ’ বিএনপি

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

১৯৭৮ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও চ্যান্সেলর জিয়াউর রহমান যে বাধার মুখে পড়েন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দেন তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আপসের শিল্প হিসেবে এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে। টিএসটিতে গেলে রোকেয়া হলের সামনে মুজিববাদী ছাত্রলীগ ও বামপন্থী জাসদ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের সাথে অশোভন আচরণ করেন। অনেকে রাস্তায় শুয়ে পড়ে তার গতিরোধের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিতরা তাকে ফিরে যেতেও বলেন। কিন্তু জিয়া এগিয়ে যান। জার্মানির বিখ্যাত চ্যান্সেলর অটো ভন বিসমার্ক ‘পলিটিক্স ইজ দ্য আর্ট অব কম্প্রোমাইজ’ উক্তিটি করেছিলেন কি না তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে বিসমার্ক এও বলেছিলেন, ‘রাজনীতি হলো সম্ভাবনার শিল্প’। সময় ও প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ এই সমঝোতার তত্ত্বটিকে নিজেদের মতো ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু জিয়া সেদিন বিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছুড়ে দেয়া ইটপাটকেলের সামনে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছিলেন কিভাবে রাজনীতিকে সম্ভাবনার শিল্পে পরিণত করতে হয়।

টিএসটিতে কি ঘটেছিল সেদিন

জিয়াউর রহমান টিএসসির সামনে গাড়ি থেকে নেমেই পশ্চিম দিকে রোকেয়া হলের সামনে কিছুসংখ্যক ছাত্রীকে এবং রাস্তার উত্তর পাশে তৎকালীন পাবলিক লাইব্রেরির (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি) পাশে কিছুসংখ্যক ছাত্রকে কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ করতে দেখেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেন, তিনি বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলবেন। কিন্তু ভিসি ফজলুল হালিম চৌধুরী বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের কাছে না যাওয়ার জন্য চ্যান্সেলরকে অনুরোধ করেন। জিয়া তার অনুরোধকে উপেক্ষা করে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সাথে না নিয়ে শুধু ভিসি ফজলুল হালিম চৌধুরী, ঢাকা সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত এবং প্রেসিডেন্টের পিএসওকে সাথে নিয়ে প্রথমে রোকেয়া হলের সামনে বিক্ষোভরত ছাত্রীদের কাছে এবং পরে রাস্তার উত্তর পাশে অবস্থানরত ছাত্রদের কাছে যান। প্রেসিডেন্টের এহেন অপ্রত্যাশিত আচরণে তারা হতচকিত হয়ে যান। কেন কালো পতাকা দেখানো হচ্ছে, কি তাদের বক্তব্য জিয়া তা জানতে চাইলে ছাত্রীরা তেমন কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি এবং কোনো অশোভন আচরণ করেনি। কিন্তু ছাত্রদের কাছে প্রেসিডেন্ট জিয়া কিছুটা প্রতিরোধ ও অশোভন আচরণের সম্মুখীন হন। ছাত্রদের মধ্য থেকে প্রথমে তাকে ধুলাবালু নিক্ষেপ এবং পরবর্তীতে ধাক্কা দেয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ছাত্ররা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এবং জিয়াউর রহমানকে ফিরে যাওয়ার দাবিতে তার সামনেই স্লোগান দেয় এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। প্রেসিডেন্ট জিয়া শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন এবং বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের তার সাথে টিএসসিতে নিয়ে আসেন। টিএসসির উপরের ব্যালকনিতে ছাত্রছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

মনোজগতে বিরাট পরিবর্তন

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের মানুষের মনে বিশাল পরিবর্তন এনে দিয়েছে, যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতি স্বীকার না করা। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো মানুষের এই ভাষাকে ‘টিউন’ করতে না পারলে কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারবে না। এই মুহূর্তে সবার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে যে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন তা রাজনৈতিক বাকচাতুর্যের মধ্যে দিয়ে বিরোধীপক্ষকে দায়ী করার কৌশল হিতে বিপরীত হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ বারবার দেখেছে কিভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরীষ্ঠতা শাসককে স্বৈরাচারী করে তুলেছে। ইতোমধ্যে দু’টি উপনির্বাচনের নমুনা দেখে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের স্বরূপ কি হতে পারে তা নিয়ে শঙ্কা দানা বাঁধছে। ব্যাপক জনসমর্থন কখনোই জনভিত্তি নয়, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব যে জনভিত্তিকেও কর্পুরের মতো উড়িয়ে নেয়, বাধ্য হয়ে জাতীয় মসজিদের খতিব পালিয়ে যান, পুলিশের বড় কর্তা, সচিব, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীর দীর্ঘ মিছিলে সামরিক শীর্ষ জেনারেলরাও অনুসারী হয়ে উঠেন এ ধরনের বায়োস্কোপের রিল পুনরায় দেখতে মানুষ এখন অপছন্দ করে।

পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার শুরু

হবিগঞ্জে পুলিশ সড়কে মানবঢালের মতো প্রাচীর গড়ে এনসিপির নেতাকর্মীকে যে বাধা দিলো এ ঘটনাই কী পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহারের শুরু? সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ পুলিশের কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলেন হামলাকারীদের কয়জনকে গ্রেফতার করেছেন, পুলিশি অবস্থানের কিছু দূরেই হামলাকারীরা লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অপেক্ষায় ছিল। এরপর হামলাকারীদের তাণ্ডব দৃশ্য হবিগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, রংপুর, শরীয়তপুর, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যে ঘটেছে তা মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সয়লাব হয়ে আছে। পুলিশের গোয়েন্দা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। কারণ তাদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে। আছে উপরের নির্দেশ। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে আলিয়া মাদরাসার সামনে পুলিশ হুঙ্কার দিচ্ছে, ‘হু আর ইউ’। হাসপাতালে আহত রোগীরা হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। কিন্তু পুলিশ হেলমেটধারী একজন অস্ত্রধারীকেও গ্রেফতার করতে পারছে না।

সেদিন জিয়া কি করেছিলেন

জিয়াউর রহমান প্রথমে ছাত্ররাজনীতির ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বুঝে তিনি পরবর্তীতে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক ভূতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন ( বর্তমানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য) প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও দেশের বিরাজমান অবস্থার ওপর খোলাখুলি বক্তব্য রাখেন। তার স্মৃতিচারণ হচ্ছে, ‘ প্রায় ১৫ মিনিট বক্তব্য রাখার পর বক্তব্য শেষ করতে যাচ্ছিলাম, প্রেসিডেন্ট জিয়ার গম্ভীর কণ্ঠ মাইক্রোফোনে ভেসে এলো, শেষ করবেন না, আরো বলুন। আপনি স্পষ্টভাবে বলছেন, আরো বলুন। প্রেসিডেন্টের এ আহ্বানে আবার ১৫ মিনিটের মতো বক্তব্য রেখে শেষ করতে চাইলে, পুনরায় জিয়া একই নির্দেশ দিলেন। আমি তিন ধাপে প্রায় ৪৫ মিনিট বক্তব্য রাখি।’

বক্তব্যের পর নিজের আসনে বসে প্রেসিডেন্ট জিয়ার বক্তব্য শোনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন সেদিনের সেই তরুণ শিক্ষক। ধারণা ছিল জিয়া তার বক্তব্য এবং টিএসসির বাইরের ঘটনা নিয়ে অত্যন্ত ক্রুব্ধ ও রূঢ় বক্তব্য রাখবেন। কারণ তার বক্তব্যের সময় টিএসসিতে উপস্থিত সব শিক্ষক ও ব্যালকনিতে ছাত্রছাত্রীরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়েছিলেন। টিএসসিতে শিক্ষকরা বিস্মিত হন ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি দেখে। চ্যান্সেলর শিক্ষকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। সেখানে ছাত্রদের উপস্থিতি কাম্য ছিল না। শিক্ষকরা তখনও টিএসসির বাইরে কি ঘটেছে তা জানতেন না। শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির কারণ বুঝতে পারেননি।

কিন্তু জিয়া যা করলেন

সবাইকে বিস্মিত করে জিয়া, মোশাররফ হোসেনের বক্তব্যের বিভিন্ন ইস্যুতে সমর্থন এবং প্রশংসা করেন। টিএসসির বাইরের ঘটনার কোনো উল্লেখও করেননি। টিএসসির ওই সভায় জিয়া ১৯৭৯-এর প্রথমাংশে সাধারণ নির্বাচন এবং সামরিক আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য দু’টি হল, ছাত্রীদের জন্য একটি হল এবং শিক্ষকদের জন্য আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধি বরাদ্দে প্রতিশ্রুতি দেন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার ঘোষিত বরাদ্দ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরবর্তীতে ছাত্রদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল এবং ছাত্রীদের জন্য একটি হল নির্মাণ করা হয়। শিক্ষকদের জন্য সেই বরাদ্দ থেকে উদয়ন স্কুলের দক্ষিণ পাশে ও ফুলার রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়। জিয়ার বক্তৃতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের গণতান্ত্রিক চর্চা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশ^াসের পরিপ্রেক্ষিতে ডাকসু নির্বাচন কয়েক মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। ৪৫ মিনিটের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে কিছু সত্য ঘটনা উল্লেখ করে জনগণ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে খাটো করে দেখার অপপ্রয়াসের সমালোচনা করেন জিয়া।

ক্যাম্পাসে ব্যাপক আতঙ্ক

জিয়া বক্তব্য শেষে টিএসসি ত্যাগ করার পর প্রায় সব শিক্ষক মোশাররফ হোসেনকে স্পষ্ট সাহসী বক্তব্য রাখার জন্য অভিনন্দন জানানোর সাথে সাথে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য ক্যাম্পাস ছেড়ে আত্মগোপনে যাওয়ার পরামর্শ দেন। জিয়ার সাথে অশোভন আচরণকারী ছাত্রদেরও ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। শিক্ষকদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাথে টিএসসির বাইরে কালো পতাকা প্রদর্শন, অশোভন আচরণ এবং সামরিক শাসনবিরোধী কঠোর বক্তব্যের জন্য ব্যবস্থা নেবে সরকার। চারপাশে চাপা আতঙ্ক, দিবাগত রাতেই ক্যাম্পাস ঘেরাও হবে, মোশাররফ এবং বিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু কয়েক দিন কেটে গেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রেইড হলো না। গ্রেফতার তো দূরের কথা কোনো মামলা হলো না। এসব ঘটনা তখন সপ্তাহব্যাপী আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। আত্মগোপনে থাকা অনেকে ফিরে আসেন ক্যাম্পাসে। জিয়া সেদিন ঢাবিতে যে অপরিসীম ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন তা নজিরবিহীন। কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই জিয়া শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের মন জয় করে গিয়েছিলেন।

১০ হাজার কোটি টাকার ওপেন টেন্ডার

জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্রাবাস নির্মাণে যে ১০ হাজার কোটি টাকার কাজ সেনাবাহিনীকে দেয়া হয়েছিল তা বাতিল করে ওপেন টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। সেই ঠিকাদারি, চাঁদাবাজি, হল নিয়ন্ত্রণ, ফাও খাওয়ার সংস্কৃতি উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ অপসংস্কৃতিতে আর ফিরে যেতে না চেয়ে সঙ্কল্পে অটুট। তাদের মনোজগতে যে পরিবর্তন ঘটে গেছে তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে ঐক্যবদ্ধ এক প্রয়াসের মধ্যে।

ছাত্ররাজনীতির পেশী শক্তি

বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠান পাঁচ মিনিটের মধ্যে গুটিয়ে নেয়ার হুমকি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। শরীয়তপুরে জুলাই অনুষ্ঠান থেকে জুলাই যোদ্ধাদের মারধর করতে করতে বের করে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এমনদিকে মোড় নিচ্ছে যে ‘হাত থাকতে মুখ কিসের’ এই প্রবাদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে। অথচ রাজনীতি হলো সম্ভাব্যতার শিল্প, অর্জনযোগ্যতার শিল্প- পরবর্তী সেরা হওয়ার শিল্প। এর কার্যকর সমাধান আসে সেইসব রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে, যারা উপলব্ধি করেন যে তারা সব ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করেন, শুধু তাদের জন্য ভোট দেয়া ভোটারদের নয়। এমনকি রাজনীতি হলো বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঐকমত্য ও সহযোগিতার বোঝাপড়া তৈরি করা। রাজনৈতিক সমাজে ভিন্ন মত ও পথের মানুষদের মধ্যে সঙ্ঘাত এড়াতে পারস্পরিক ছাড় ও সমঝোতাই হলো রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি সর্বজনস্বীকৃত পথ।

টকশোতে যা দেখা যাচ্ছে

রাজনীতি যে সমঝোতার শিল্প তা বিশ্লেষক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ভাষ্যকররা খুব কমই বলছেন। পারস্পরিক দোষারোপের মধ্যে দিয়ে বাৎচিতে একটা জয়লাভের উদগ্র বাসনা থেকে টকশোতে উপস্থিত অতিথিরা উত্তেজনা প্রশমন করে রাখতে পারছেন না। এরই চাপা ক্ষোভ বিক্ষোভের ঢেউ উপচে পড়ছে শিক্ষাঙ্গন থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলছেন বিরোধী দল জালিমে পরিণত হয়েছে। বিরোধী দল যে ভাষায় কটূক্তি করছে তাতে আমরা সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠছি। বিএনপির শীর্ষ নেতা বলছেন, বিরোধী দল আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছে। উপস্থাপকরা বাধ্য হয়ে প্রশ্ন তুলছেন এই ধরনের পাল্টা আক্রমণের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবেশকে আরো বিষিয়ে তুলছে কি না।