ভাসমান সেতু ট্র্যাজেডি

২ সন্তান হারিয়ে নির্বাক মা শোকে স্তব্ধ পরিবার

Printed Edition

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান সেতু উল্টে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। ঈদের দিন (২১ মার্চ) বিকেলের ওই দুর্ঘটনায় দুই সন্তান হারিয়ে চার দিন ধরে অচেতন অবস্থায় রয়েছেন মা। আহাজারি থামছে না বাবার।

নিহতরা হলো- আবির হোসেন (১৫), আব্দুল মোতালেব (৬), খাদিজা (১২) এবং ভাইবোন মায়ামনি (১০) ও মিহাদ হাসান (১৩)। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেতু পারাপারের সময় কিছু তরুণের দোলনায় ভারসাম্য হারিয়ে সেতুটি উল্টে যায়। অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও পাঁচ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।

চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের হলকারচর এলাকার কৃষক জয়নাল আবেদীন এই দুর্ঘটনায় দুই সন্তান মিহাদ ও মায়ামনিকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তিন সন্তান নিয়ে সেতু পার হচ্ছিলাম। মাঝপথে হঠাৎ সেতু দুলতে শুরু করলে আমরা পানিতে পড়ে যাই। অনেক চেষ্টা করে এক সন্তানকে বাঁচাতে পেরেছি। কিন্তু চোখের সামনে দুই সন্তান ডুবে গেল।’

জানা যায়, দীর্ঘ ১৩ বছর পর জয়নাল-মর্জিনা দম্পতির ঘরে তিন সন্তানের জন্ম হয়েছিল। এরমধ্যে দুই সন্তান হারানোর শোক সইতে না পেরে মা মর্জিনা চার দিন ধরে অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। তিনি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পাঁচ পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মুরাদ হোসেন। ঘটনার খবর পেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে।