সবজির দাম কমলেও বেড়েছে চাল ও চিনির বাজার

আরো দেড় মাস বাকি রমজান মাস আসতে। এরইমধ্যে দেশের বাজারে বাড়তে শুরু করছে চিনি ও চালের দাম। সাধারণ ক্রেতারা বলছে, এখনই দাম বাড়তে শুরু করলে রোজার মাসে কী অবস্থা হবে সেটা বলার বাকি রাখে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

রমজান মাস আসতে আরো দেড় মাস বাকি। এরইমধ্যে দেশের বাজারে বাড়তে শুরু করছে চিনি ও চালের দাম। সাধারণ ক্রেতারা বলছে, এখনই দাম বাড়তে শুরু করলে রোজার মাসে কী অবস্থা হবে সেটা বলার বাকি রাখে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত কয়েক মাস ধরে চিনির দাম কমতি থাকলেও সম্প্রতি বাড়তে শুরু করছে। এখন খোলা ও মোড়কজাত উভয় ধরনের চিনির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে বেড়েছে।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজার ও নিউমার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে ঘুরে বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, খোলা ও মোড়কজাত চিনির দাম বেড়েছে। এখন বাজারে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ টাকা। মোড়কজাত চিনি এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, যা ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা।

গতকাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দাম গড়ে তিন থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়, বিভিন্ন ব্রান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৭২ থেকে ৭৪ টাকা। মাঝারি মানের ব্রি-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়। স্বর্ণা ও গুটি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়।

এ দিকে, বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কমেছে পেঁয়াজসহ অন্যান্য সবজির দাম। এখন খুচরা পর্যায়ে দেশী নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। দেশী পুরাতন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরবরাহ বাড়ায় শীতকালীন সবজির দামও কমেছে। অনেক সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার মধ্যে। বাজারে মানভেদে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪৫ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। প্রতি কেজি মূলা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। বেগুনের দর নেমেছে ৪০-৬০ টাকায়। গত সপ্তাহের মতো মাঝারি আকারের ফুল ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়। শালগম ও পেঁপে কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ব্রোকলি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মৌসুমের বাইরে থাকা কিছু সবজির দাম ৭০-৮০ টাকা। পটোল, চিচিঙ্গা, করলা ও ঢেঁড়স এই দামে মিলছে। একই দামে মিলছে টমেটো। গাজর কমে ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল বাজারে দেখা যায়, মাঝারি আকারের চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০, দেশী শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাঝারি সাইজের পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশী পাঁচমশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ও ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ দিকে স্বাভাবিক রয়েছে মুরগির দাম। গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায়। গরুর গোস্ত ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১৫০-১২৫০ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।

রাজধানীর নিউমার্কেটে সাপ্তাহিক কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী রশিদা আক্তার বলেন, “কয়েক মাস চালের বাজার স্থিতিশীল থাকার পর আবার দাম বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের মতো মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য হঠাৎ করে চালের দাম বাড়াটা দুঃসংবাদ। চিনির দামও বাড়তি দেখলাম। রমজান মাস না আসতেই চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। আমরা সাধারণ ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। কোনো সরকারের আমলেই ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙ্গা যায়নি।”

কাওরানবাজারের চালের আড়ৎদার আজাদ ব্যাপারি বলেন, “কিছু কিছু জাতের চালের দাম সামান্য বেড়েছে। আমদানি বাড়লে চালের দাম আবার কমবে। খোলা পোলাওয়ের চালের দাম কেজিতে অন্তত ১৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়।”