অনুবাদ : নজরুল রাসেল
আমি অনেক আগে থেকেই বিশ্বাস করতাম যে, আমার পিছু নেয়া লোকগুলো কারা তা আমাকে জানতে হবে, অন্যথায় আমি তাদের কিভাবে চিনতে পারব, যদিও আমি শুধু পেছন ফিরে তাকাতে পারতাম, তাদের মধ্যে থেকে আমার দিকে নজর রাখছে এমন কাউকে চিহ্নিত করতে পারতাম, হ্যাঁ, আর তাদের মুখের গঠন, চোখের রঙ, কপালের উচ্চতা, নির্দিষ্ট ধরনের চুলের ভঙ্গি, নাকের আদল, অথবা মুখ ও ঠোঁটের, কিংবা চিবুক, ভ্রু, চোয়ালের হাড়ের অনুপাত থেকে শুরু করে সব কিছু পুরো মুখের সাথে মিলিয়ে দেখতে পারতাম; কিন্তু যখনই আমি এই ধরনের কোনো মুখাবয়ব দাঁড় করাই তখনই আমি কেবল এক অপ্রয়োজনীয় সাধারণ চেহারা দেখতে পাই, যার কোনো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বা চিহ্ন নেই, কেবল এক উদাসীন, গড়পড়তা সাধারণ মুখাবয়ব, এমন এক মুখ যা দেখে কিছুই বোঝা যায় না, এটি যে কারোরই হতে পারে এবং এই মুখাবয়ব কল্পনা করতে করতেই আমি বিপজ্জনকভাবে একটি পিচ্ছিল ঢালুতে নেমে পড়ি, আমি কল্পনা করতে থাকি- ভিড়ের মধ্যে শুধু কয়েকটি মুখই আমাকে তাড়া করছে না; বরং পুরো ভিড় আমাকে তাড়া করছে; কিন্তু সেই সময়েও আমি জানতে পারি, এটি সত্যি হতে পারে না, কারণ যেকোনো ভিড়ের মধ্যে, যেকোনো কারণেই তারা জড়ো হোক না কেন, যেকোনো সাধারণ রাস্তার ভিড়ে আমি মিশে যাই, সেখানে লুকিয়ে থাকি।
এটি নিশ্চিত যে, আমি যদি সেখানে থাকি তবে কেউ কখনো বিন্দুমাত্র সন্দেহ করবে না, আমি সেই ভিড়ের মধ্যে আছি কি না তা কেউ গুরুত্ব দেবে না। ভিড়ের আসলে কোনো মোহ নেই, ভিড়ের কোনো পরিচয় নেই, ইচ্ছা নেই, লক্ষ্য নেই, দিকনির্দেশনা নেই। কারণ কোনো ভিড় কখনো বুঝতে পারে না যে, সে আসলে একটি ভিড়, আর তাই আমাকে সেই মুখাবয়ব বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন করতে হয়, আমি কপাল, চুল, নাক, মুখ বা কানের লতি থেকে আমার অনুসরণকারীদের মুখাবয়ব একত্রিত করার প্রচেষ্টা বাদ দেই এবং তার পরিবর্তে আমি কেবল তাদের চোখের দিকে তাকানোতে মনোযোগ দেই।
আমি এক পলকে সেই চোখের ভাষাটি পড়ে ফেলি, যখন আমি পেছন ফিরে দেখতে যাই তখনই অন্য কারো সাথে আমার চোখাচোখি হয়ে যায়, আর তাদের চোখের ভাষা পড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে, আমি এমন এক ক্ষমতা অর্জন করেছি যা আমার আগে কখনো ছিল না, কারণ সত্যিকার অর্থে আমাকে অবশ্যই- আমার এই এক পলকের দৃষ্টির মাধ্যমে, অন্য কারো তাৎক্ষণিক দৃষ্টির পুরো ইতিবৃত্ত অনুধাবন করতে হচ্ছে এবং এর জন্য যেকোনো সাধারণ দৃষ্টিশক্তি যথেষ্ট নয়, যেহেতু আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, পেছনে ফিরে এক পলকের দৃষ্টিতে তাকানোর মাধ্যমে, এদের কারো চোখের নির্দিষ্ট কোনো দৃষ্টি এবং তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা, আসলে আমার পেছনে ছায়ার মতো লেগে থাকা কারোর কিনা- আর এটি আমি এমন এক সময়ে করছি যখন পর্যন্ত আমি নিশ্চিত নই, কাজটা কতটা কঠিন। এই ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে অর্জন করা, হয়তো এটি ততটা কঠিন নয়- যাই হোক, আমি যে ভয় পেয়েছি এটিই যথেষ্ট। আমি তখন থেকেই ভয়ের মধ্যে বাস করছি যখন থেকে জানতে পেরেছি, তারা আমার পিছু নিয়েছে, দ্রুত গতিতে তাড়া করছে এবং আমার বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হলো পালিয়ে যাওয়া এবং পালিয়ে যেতে থাকা।



