গভীর সঙ্কটে আইসিসি

জসিম উদ্দিন রানা
Printed Edition
গভীর সঙ্কটে আইসিসি
গভীর সঙ্কটে আইসিসি

বাংলাদেশের দাবি মানা না হলে বেঁকে বসতে পারে পাকিস্তানও! বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল বিসিবি। শেষ মুহূর্তে এত জটিলতা সামলে আইসিসি বাংলাদেশের দাবি মেনে নেবে কি না তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। তবে শেষ মুহূর্তে সব হিসাব বদলে দিতে পারে পাকিস্তান।

টি-২০ বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই নতুন করে গভীর সঙ্কটে পড়েছে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এখন একক কোনো ইস্যু নয়। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে ভারত থেকে নিজেদের ম্যাচ সরিয়ে নেয়ার দাবিতে অনড় আমিনুল ইসলামের বোর্ড। এই সঙ্কটের মধ্যেই নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে আইসিসি। বাংলাদেশের দাবিকে কেন্দ্র করে শক্ত অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তানও।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার ও টেলিকমএশিয়া ডটনেট জানিয়েছে, বাংলাদেশের সমস্যা সমাধান না হলে বিশ্বকাপে নিজেদের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ।

ঘটনার সূত্রপাত মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর। বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে বিসিবি। আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেয়ার দাবি জানায়। আইসিসি শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্ত থেকে বাংলাদেশকে সরে আসতে চাপ দিয়ে আসছে। সবশেষ আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করলেও অবস্থান পরিবর্তনে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। বরং গ্রুপ পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা করে।

জিও সুপারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিবি যে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েছে, তা ইসলামাবাদ বৈধ বলেই মনে করছে। পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট-বাংলাদেশকে জোর করে ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না।

আরো জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের দাবি পূরণ না হলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। এমনকি ভারত যেন বাংলাদেশকে এ বিষয়ে চাপ দিতে না পারে, সেটিও দেখবে পাকিস্তান সরকার ও পিসিবি। পাকিস্তানি গণমাধ্যমের দাবি, পিসিবির শীর্ষ পর্যায় থেকেই এমন বার্তা দেয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে না সরালে তারা সবাইকে চমকে দেয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সম্পর্ক বেশ উষ্ণ। বিসিবি ও পিসিবির মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে, এমনকি এফটিপির বাইরে দুই দেশের মধ্যে সিরিজও আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সেই ধারাবাহিক সম্পর্কের ফল হিসেবেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াচ্ছে পাকিস্তান।

তবে সময়টা আইসিসির জন্য ভীষণ কঠিন। টুর্নামেন্ট শুরুর এক মাসেরও কম সময় আগে গ্রুপ পরিবর্তন করতে গেলে দুই গ্রুপের মোট ১০টি দলের সাথে আলোচনা করতে হবে। আবার বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়াও লজিস্টিক ও সম্প্রচারগত দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এত জটিলতার মধ্যে আইসিসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দাবি মানবে কি না- তা এখনো অনিশ্চিত। এর মধ্যেই পাকিস্তানের এমন কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। উপ মহাদেশের দুই বড় দল বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন আইসিসির জন্য আর্থিক ও কূটনৈতিক-দুই দিক থেকেই বড় ধাক্কা হতে পারে।

সূচি থেকে সরছে না আয়ারল্যান্ড

ভেনু পরিবর্তন নিয়ে ক্রিকবাজ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটার সাথে সহমত প্রকাশ করেছেন বিবিসি সাংবাদিক নাথান জোনস। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে জোনস লিখেছেন, ‘ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড আইসিসির কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেয়েছে যে টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাথে গ্রুপ পরিবর্তনে তাদের (আয়ারল্যান্ড) বাধ্য করা হয়নি। সূচি অনুযায়ী আয়ারল্যান্ডের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কাতেই হবে।’

গত পরশু বিসিবি-আইসিসির আলাপ-আলোচনার পর ভারতের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ পরিবর্তন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের (সিআই) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘বর্তমান সূচি থেকে আমরা সরছি না। এমন নিশ্চয়তা আমাদের দেয়া হয়েছে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অবশ্যই আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলব।’