রাজধানীতে ৩ খুন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • লালবাগে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
  • যুবকের রক্তাক্ত লাশ যাত্রাবাড়ীতে
  • খিলগাঁওয়ের খালে ভাসমান লাশ

রাজধানীতে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনাই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিখেঁাঁজের তিন দিন পর গতকাল শুক্রবার ভোরে লালবাগে মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম ওরফে রনি (৪৭) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই দিন যাত্রাবাড়ীর সনটেক এলাকার সড়ক থেকে রাব্বি (২৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী সেতুর নিচে জিরানি খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় জজ মিয়া (৪৪) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজের তিন দিন পর পুরান ঢাকার লালবাগের বি সি দাস স্ট্রিটের একটি ভবনের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম ওরফে রনি (৪৭) নামে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত নিহতের বন্ধু মাসুমকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মাসুমকে সাথে নিয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বি সি দাস স্ট্রিটে পাঁচতলা একটি ভবনে তার ইমিটেশন তৈরির কারখানায় অভিযান শুরু করা হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল ভোরে ভবনের পাশে মাটি খুঁড়ে ওয়াসিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার হাত-পা বাঁধা ছিল। মুখে পলিথিন মোড়ানো ছিল। লাশটিতে পচন ধরেছে। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যালে কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ওয়াসিম তার বন্ধু মাসুমের কাছে পাওনা তিন লাখ টাকা চাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। পরে ওয়াসিমের লাশ গুম করার জন্য মাটিচাপা দেয়া হয়। ওয়াসিম জমি বেচাকেনায় মধ্যস্থতা করতেন।

পুলিশের কর্মকর্তা বলেন, ওয়াসিমের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে গত মঙ্গলবার লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়। সে জিডির তদন্ত করতে গিয়ে ওয়াসিমের বন্ধু মাসুমকে আটক করে পুলিশ।

লালবাগ থানার এসআই রেজাউল আলম সরকার বলেন, ওয়াসিম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার ভাই শেখ আবদুল করিম লালবাগ থানায় জিডিটি করেন। পরে পুলিশ তদন্তে নামে। ওয়াসিমের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার বন্ধু মাসুমকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিডি করার সময়ও মাসুম থানায় এসেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায় মাসুম স্বীকার করেন, তার কাছে ওয়াসিম তিন লাখ টাকা পান। এ পাওনা টাকা ফেরত দেয়ার জন্য তিনি তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার টাকা দেয়ার কথা বলে ওয়াসিমকে ডেকে নিয়ে যান মাসুম। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। মাসুম প্রথমে মাথায় আঘাত করে ওয়াসিমকে নিচে ফেলে দেন। পরে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন। ওয়াসিমের হাত-পা বেঁধে, মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে পলিথিন পেঁচিয়ে তার লাশ মাটি খুঁড়ে চাপা দেন।

নিহত ওয়াসিম লালবাগের স্থায়ী বাসিন্দা। তবে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজধানীর শনির আখড়ায় থাকতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ীর সড়ক থেকে যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

অপর দিকে গতকাল সকালে যাত্রাবাড়ীর সনটেক এলাকার সড়ক থেকে রাব্বি নামে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন, সকালে খবর পেয়ে সনটেক এলাকার একটি সুপার শপের সামনের সড়ক থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

রাব্বির বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানিয়ে ওসি রাজু আহমেদ বলেন, কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা জানা যায়নি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অপরাধ শনাক্তকরণ দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে বলে জানান ওসি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজধানীর শনির আখড়ায় থাকতেন রাব্বি। তিনি যাত্রাবাড়ীতে তার বাবার সাথে মাছের আড়তে কাজ করতেন।

খিলগাঁওয়ের খালে ভাসছিল জজ মিয়ার লাশ, হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ১

এ দিকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী সেতুর নিচে জিরানি খালের পানিতে ভাসছিল একটি লাশ। গত বুধবার পরিচয়হীন এ ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পুলিশ।

পরে পুলিশ এ ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। তারা নিশ্চিত হয়, এটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

নিহত ব্যক্তির নাম মো: জজ মিয়া (৪৪)। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায়। বাবার নাম মো: আনোয়ার হোসেন। জজ মিয়া রাজধানীর খিলগঁাঁওয়ে থাকতেন।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, বুধবার সকাল ১০টার দিকে জিরানি খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর তদন্ত শুরু করে খিলগাঁও থানার পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মো: আবদুল্লাহ (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আবদুল্লাহ বলেছেন, জজ মিয়া তার এক সহযোগীর স্ত্রীর সাথে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এর জেরে তাকে হত্যা করা হয়। তবে প্রকৃত ঘটনা কী, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হত্যায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ বলছে, গত মঙ্গলবার জজ মিয়া তার খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে বের হন। দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মেরুল বাড্ডার মিন্টুর গ্যারেজে যান। সেখানে আগে থেকে আবদুল্লাহসহ অন্য ব্যক্তিরা অবস্থান করছিলেন। তারা ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে জজ মিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে জজ মিয়ার লাশ জিরানি খালে ফেলেন তারা।

এ ঘটনায় জজ মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদি হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।