বিশেষ সংবাদদাতা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর (আরপিও) বিপরীত ¯্রােতে চলছে দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল। দলগুলো নারী অধিকারের কথা বললেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৩১ দলের কোনো নারীপ্রার্থী নেই। এবার নির্বাচনে একজন হিজড়াসহ ৭৭ জন নারীপ্রার্থী ভোটযুদ্ধে টিকে গেছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ সংখ্যা ছিল ৯৬ জন। প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীপ্রার্থী ছিলেন ৩৭ জন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫১টি দলের মধ্যে ২০টির নারীপ্রার্থী রয়েছে। এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থী রয়েছে এক হাজার ৯৮১ জন।
আগের নির্বাচনগুলোর তথ্য বলছে, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে নারীপ্রার্থী ছিলেন, ৩৭ জন, ১৯৯৬ সালে ৩৬ জন, ২০০১ সালে ৩৮জন, ২০০৮ সালে ৫৯ জন, বিতর্কিত ২০১৪ সালে ২৯ জন, ২০১৮ সালে ৬৯ জন এবং ২০২৪ সালের ভোটে সর্বোচ্চ ৯৬ জন প্রার্থী ছিলেন।
ইসির তথ্য থেকে দেখা গেছে, এবারের ৭৭ জন নারীপ্রার্থীর মধ্যে ১৬ জন স্বতন্ত্র, বাকিরা রাজনৈতিক দলের। সবচেয়ে বেশি নারীপ্রার্থী দিয়েছে বিএনপি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদী। দুই দলেরই ১০ জন করে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। তবে মোট প্রার্থীর তুলনায় নারীর অংশগ্রহণ বেশি রয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদী (১০ জন)। এই দলের মোট প্রার্থীর তুলনায় নারীপ্রার্থীর হার ৩৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বস্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীসদস্য রাখার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৩১টি দলের নারীপ্রার্থী নেই।
জাতীয় পার্টি (৬ জন) : সরকারে ও বিরোধী দলে থাকা এই দলটির নারী প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে নুরুন নাহার বেগম, ঝিনাইদহ-১ মনিকা আলম, খুলনা-৫ শামীম আরা পারভীন, ঢাকা-১০ বহ্নি বেপারী, নরসিংদী-৫ মেহেরুন নেসা খান হেনা ও খাগড়াছড়ি মিথিলা রোয়াজা। দলটির মোট প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে ১৯৬ জন। সে হিসেবে নারীপ্রার্থী ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।
গণফোরাম (দু’জন) : ঝিনাইদহ-৪ আসনে খুনিয়া খানম ও ঢাকা-৯ আসনে নাজমা আক্তার গণফোরামের নারী প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দলটির প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে ১৯ জন। নারীপ্রার্থীর হার ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (একজন): দিনাজপুর-৩ আসনে লায়লাতুল রীমাই দলটির একমাত্র নারী প্রতিদ্বন্দ্বী।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদী (১০ জন):
এই দলের রংপুর-৩ আসনে প্রগতি বর্মন তমা, গাইবান্ধা-৫ মোছা: রাহেলা খাতুন, জয়পুরহাট-১ তৌফিকা দেওয়ান, ঢাকা-৫ শাহীনুর আক্তার সুমী, ঢাকা-৭ সীমা দত্ত, গাজীপুর-১ তাসলিমা আক্তার, নোয়াখালী-৫ মুনতাহার বেগম, চট্টগ্রাম-১০ আসমা আক্তার, চট্টগ্রাম-১১ দীপা মজুমদার ও মৌলভীবাজার-২ এ সাদিয়া নওশীন তাসনিম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (৪ জন) : বগুড়া-৬ আসনে দিলরুবা, মাগুরা-১ আসনে শম্পা বসু, বরিশাল-৫ মনীষা চক্রবর্তী ও কুমিল্লা-৬ এ কামরুন নাহার সাথী দলটির নারী প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দলের প্রার্থীর নারী হার ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ।
বিএনপি (১০ জন) : বেশ কয়েকবার ক্ষমতায় ও বিরোধী দলে থাকা বিএনপির নারী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমীন, যশোর-২ আসনে মোছা: সাবিরা সুলতানা, ঝালকাঠি-২ ইশরাত জাহান ইলেন ভুট্টো, মাদারীপুর-১ নাদিরা আক্তার, মানিকগঞ্জ-৩ আফরোজা খানম, ঢাকা-১৪ সানজিদা ইসলাম, শেরপুর-১ সানসিলা জেবরীন, সিলেট-২ তাহসীনা রুশদীর, ফরিদপুর-৩ চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও ফরিদপুর-২ এ শামা ওয়াবেদ। এই দলের নারী প্রার্থীর হার ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (১ জন) : ঢাকা-১৮ আসনে ছাবিনা জাবেদ এনপিপির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী।
ইনসানিয়া বিপ্লব বাংলাদেশ (৪ জন) : ইনসানিয়াত বিল্পবের নারীপ্রার্থীরা হলেন- মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে রোকেয়া আক্তার, ঢাকা-১৩ ফাতেমা আক্তার মুন্নি, গাজীপুর-২ সরকার তাসলিমা আফরোজ ও নরসিংদী-৫ আসনে তাহমিনা আক্তার। এই দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বীর হার ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এনসিপি (দু’জন) : এই দলটির নারী প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে দু’জন। ঢাকা-১৯ আসনে দিলশানা পারভীন ও ঢাকা-২০ আসনে নাবিলা তাসনিদ। এই দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বীর হার ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
গণসংহতি আন্দোলন (৩ জন) : এই দলের নাটোর-২ আসনে তাহমিদা ইসলাম তানিয়া, টাঙ্গাইল-৫ আসনে ফাতেমা আক্তার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে নাহিদা জাহান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বীর হার ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
গণ অধিকার পরিষদ-জিওপি (তিন জন) : সিরাজগঞ্জ-১ আসনে মোছা: মল্লিকা খাতুন, ঢাকা-৮ আসনে মেঘনা আলম ও নরসিংদী-১ আসনে শিরীন আক্তার জিওপি-এর নারী প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বীর হার ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি (৬ জন) : জেএসডির নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে- সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ইলোরা খাতুন, ফরিদপুর-৩ আরিফা আক্তার বেবী, ঢাকা-৭ আসনে শাহানা সেলিম, কুমিল্লা-৫ আসনে শিরিন আক্তার, নোয়াখালী-১ আসনে রেহেনা বেগম ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে তানিয়া রব। এই দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বীর হার ২৩ দশমিক ০৭ শতাংশ।
অন্যান্য দলের মধ্যে নাগরিক ঐক্য (একজন): পাবনা-৪ আসনে শাহানাজ হক, বাংলাদেশের রিপাবলিকান পার্টি (একজন): কুষ্টিয়া-৩ আসনে রুম্পা খাতুন, এবি পার্টি (একজন): ঢাকা-১০ আসনে নাসরিন সুলতানা, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (দু’জন): নেত্রকোনা-৪ আসনে চম্পা রানী সরকার ও রাঙ্গামাটি আসনে জুঁই চাকমা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) (একজন): নেত্রকোনা-৪ আসনে জলী তালুকদার, আম জনতার দল (একজন): ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে শরিফা আক্তার। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (একজন) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আয়েশা আক্তার এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির (একজন), চাঁদপুর-২ আসনে নাসিমা নাজনিন সরকার।
স্বতন্ত্র (১৬ জন, একজন হিজড়াসহ): এবারে নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে যে ১৬ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা বলেন, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আশা মনি, রংপুর-৩ আসনে রীতা রহমান, রংপুর-৬ আসনে তাকিয়া জাহান চৌধুরী, গাইবান্ধা-১ আসনে মোছা: ছালমা আক্তার, জয়পুরহাট-১ আসনে সাবেকুন্নাহার, ঢাকা-১ আসনে অন্তরা সেলিমা হুদা, ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারা, টাঙ্গাইল-৩ আসনে আইরিন নাহার, ময়মনসিংহ-৬ আসনে আক্তার সুলতানা, ময়মনসিংহ-৯ আসনে হাসিনা খান চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে রেহা কবির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা, কুমিল্লা-৯ আসনে সামিরা আজিম, চট্টগ্রাম-২ আসনে জিন্নাত আক্তার, খাগড়াছড়িতে জিরুনা ত্রিপুরা ও রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র আনোয়ারা ইসলাম রানী (হিজড়া)।



