তোমরা কি জানো, ‘টক পালং শাক’ কী? হয়তো বলবে, ওই শাক দেখা তো দূরের কথা, এর নামই শুনিনি।
জানো টক পালং শাকের গাছ এবং সাধারণ পালং শাকের গাছ দেখতে প্রায় একই রকম! এ দুটো দেখতে এতোটাই মিল যে, এদের পাতা ছিঁড়ে মুখে না নেওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না এটি ‘টক পালং’ নাকি টকহীন বা সাধারণ পালং। অতীতে যখন বাজারে প্রচুর টক পালং কিনতে পাওয়া যেতো। তখন সাধারণ পালংকে মানুষ ‘মিষ্টি পালং’ও বলতো, শুধু এ দুটোর মাঝে পার্থক্য বুঝানোর জন্য। সেই টক পালং এখন প্রায় বিলুপ্তই হয়ে গেছে। অনেক স্থানে উচ্চফলনশীল টক পালং চাষ হলেও তা দেখতে প্রায় হারিয়ে যাওয়া টক পালংয়ের মতো নয়। এর স্বাদেও রয়েছে ভিন্নতা। অতীতে টক পালং চাষ হতো শুধু শীতকালে। এখন উচ্চফলনশীল এ শাক চাষ হয় প্রায় সারাবছর।
জানা গেছে, টক পালং শাক বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এর পাতা কিছুটা ডিম্বাকৃতির। পাতা রসালো ও বেশ পুরু ও কিছুটা লোমযুক্ত। এর ফুল ছোট ও লালচে বা সবুজ। এর ফলও হয় ছোট ও বাদামি। এক সময় এ শাক চাষ হতো দেশের সব জেলায়। এখন খুবই সামান্য এর চাষ হয়; কিছু পাহাড়ি অঞ্চলে। এখানকার অধিবাসীরা এ শাককে বলে ‘বন্য ঘাস’। এর আরো নাম হলো চুকা পালং, চুকাই পালং, খাট্টা (টক) পালং ইত্যাদি। এটি বেশি পাওয়া যেত এশিয়া ও এর আশপাশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে। এ শাকের ইংরেজি নাম সোরেল (ঝড়ৎৎবষ) বা সোরেল স্পিনাক (ঝড়ৎৎবষ ংঢ়রহধপয); স্পিনাক ডক ( ংঢ়রহধপয ফড়পশ); স্যুর স্পিনাক (ঝড়ঁৎ ংঢ়রহধপয) । বৈজ্ঞানিক নাম জঁসবী ধপবঃড়ংধ।
ঠাণ্ডা আবহাওয়া বা অক্টোবর-নভেম্বরে এর চাষ শুরু করার উপযুক্ত সময়। হালকা দো-আঁশ বা এঁটেল দো-আঁশ ঝুরঝুরা মাটি চাষের জন্য ভালো। মাটি কিছুটা ভেজা থাকবে; কিন্তু পানি জমতে দেওয়া যাবে না। মাটির সাথে প্রচুর গোবর বা কম্পোস্ট সার মিশিয়ে দিলে ভালো হয়। আগাছা জমলে সেগুলো তুলে ফেলতে হবে। রোগ বা পোকার আক্রমণ হলে দ্রুত কীটনাশক ছিঁটাতে হবে। চারা কিছুটা বড় হলে এর পাশে থাকা পাতাগুলো তুলে বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হয়। তখন এর ভেতর থেকে আরো নতুন পাতা বের হতে থাকে। তখন গাছ কিছুটা ঝোপালো হয়।



