মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে সারজিস আলম

বিএনপি যেন পুরনো লুটপাটের রাজনীতিতে আর না হাঁটে

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানিতে ২৫ জনের নতুন সিন্ডিকেট করা হয়েছে। যেখানে এক লাখ টাকায় একজন কর্মী যেতে পারতেন, সেখানে এখন সাত-আট লাখ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এই সিন্ডিকেটের সাথে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা শোনা যাচ্ছে। বিএনপি যেন পুরনো সেই লুটপাটের রাজনীতিতে আর না হাঁটে।

গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর একটি হোটেলে এনসিপি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার এক সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তাতে ১৫ তারিখের পর মানুষের সংসার চলে না। পে-স্কেল নিয়ে ছয় মাস ধরে কালবিলম্ব করা হচ্ছে। মানুষ যদি অভাবের তাড়নায় দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে, তবে এই দায় সরকার এড়াতে পারবে না।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যার তীব্র সমালোচনা করে সারজিস বলেন, বর্ষা শেষ হলে প্রশাসক, এমপি বা মেয়রদের স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে শুরু করবে। তারা ভুলে যাবে এই বর্ষায় চট্টগ্রাম কিভাবে ডুবেছিল। ২০২৭ সালে আমরা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে এই নাটক আর দেখতে চাই না। আপনাদের হাতে এক বছর সময় আছে, চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নে আলাদা মেগা প্রকল্প গ্রহণ করুন।’

সরকারের গত ছয় মাসের ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, সরকার বলেছিল নির্বাচন এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ইমেজ বা বিনয়ী আচরণ দিয়ে রাষ্ট্র চলে না। পারফরম্যান্স ইজ নট গভর্নেন্স, আপনাকে সেবা ডেলিভার করতে হবে।

সারোয়ার তুষার আরো বললেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সঙ্কটের মাধ্যমে মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আইএমএফের ঋণ আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে ফিল্মি স্টাইলে অভিযান চালালেও রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। এমনকি সংবিধান লঙ্ঘন করে দুর্নীতি দমন কমিশনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা তৈরিতে বিএনপির অশিক্ষিত নেতাকর্মীদের খবরদারি ও ইউএনওদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটছে। বিএনপি নেতারা যেভাবে লুটপাট ও ‘খাই খাই’ শুরু করেছেন, তাতে মনে হচ্ছে তারা নিজেরাই বিশ্বাস করে না যে তারা পাঁচ বছর টিকবে।

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সারোয়ার তুষার আরো বললেন, আমরা ছয় মাস তাদের হানিমুন পিরিয়ড দেখেছি। এখন জনগণের স্বার্থে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। প্রয়োজনে ঢাকা ও সারা দেশে হরতালের মতো কর্মসূচি দেয়া হবে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুহাম্মদ একরামুল হকের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব রিফাত রশিদ, সাগুফতা বুশরা মিশমা, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজা উদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা। সভা সঞ্চালনা করেন উত্তর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আবদুল করিম টিপু ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলী নেওয়াজ ইমন।