এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ইতালির রাজধানী রোমে মঙ্গলবার নতুন দফায় সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে লেবানন ও ইসরাইল। আলোচনায় দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে বৈরুত।
দুই দেশের প্রতিনিধিদল বহনকারী গাড়িবহর মঙ্গলবার সকালে রোমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে পৌঁছায়। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ আলোচনা চলার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ‘উভয় সরকারকে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমনভাবে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে, যাতে দুই দেশের জন্য দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, ইসরাইলের নিরাপত্তা হুমকি দূর হয় এবং দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।’
গত জুনে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইসরাইল ও লেবানন একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সম্মত হয়। এতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধীরে ধীরে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং ‘পাইলট জোন’ নামে পরিচিত পরীক্ষামূলক এলাকা থেকে ওই অঞ্চলে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্চ মাসে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালিয়ে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার পর থেকে এটি ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সপ্তম দফার আলোচনা।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি সোমবার লেবানন ও ইসরাইলকে গঠনমূলক মনোভাব বজায় রেখে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তিনি উভয় পক্ষকে এমন অভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন, যা কাঠামোগত চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। গত মাসের আলোচনার পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রথম দিকের একটি পাইলট জোন জাওতার আল-গারবিয়া গ্রামের উপকণ্ঠ থেকে সরে যায়। এরপর লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে মোতায়েন হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সুযোগ দেয়া হয়েছে।
নিজেদের বাড়িতে ফিরছেন লেবাননের লাখ লাখ মানুষ : জাতিসঙ্ঘ
এদিকে ডন জানায়, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সঙ্ঘাতের তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় লেবাননে বাস্তুচ্যুত হওয়া আট লক্ষাধিক নাগরিক নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৮ লাখ ২১ হাজার ৭৭ জন অধিবাসী তাদের স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন শুরু করেছেন। সংস্থাটি আরো উল্লেখ করে, ব্যাপক আকারে এই গণপ্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালু হলেও এখনো ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে আনুমানিক ২৬ হাজার সাধারণ নাগরিক বর্তমানে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করছেন।



