ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌদি জোটের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা

Printed Edition

রয়টার্স

ইয়েমেনের মারিব, আল-জউফ, তাইজ ও হুদায়দাহসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৩২টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। হাউছি বিদ্রোহীদের সাথে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে স্থলভাগে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ও শক্তি জোরদার করতেই রিয়াদ হঠাৎ এই আক্রমণ বাড়িয়েছে।

২০২২ সালের দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বিফলে যাওয়ার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আক্রমণের পর ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করে। এর জবাবে হাউছি বিদ্রোহীরা বিমানঘাঁটির বদলে বিমানঘাঁটি এবং অবরোধের বিপরীতে অবরোধের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তী সময়ে তারা সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠান আরামকোর একাধিক শোধনাগার, আবহা বিমানবন্দর এবং দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ চালায়। একই সাথে সৌদি আরব অভিমুখী ও সেখান থেকে প্রস্থানকারী সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর কঠোর সামুদ্রিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে আল-জউফ প্রদেশের খব ও আশ-শা’আফ এলাকার ঐতিহাসিক সুক আল-ইয়াতামায় সৌদি বাহিনীর অগ্রযাত্রার মুখে হাউছি বিদ্রোহীরা জোরালো পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে। সেই লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের বহু সাঁজোয়া ও সামরিক যান ধ্বংস হয়ে যায়। মাঠপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, সুক আল-ইয়াতামা বাজারসহ আশপাশের সম্পূর্ণ এলাকা থেকে সৌদি সমর্থিত বাহিনীকে হটিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বর্তমানে আল-জউফের সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়া অবশিষ্টাংশদের তাড়া করা হচ্ছে। মূলত অতর্কিত আক্রমণ, কৌশলগত ঘেরাও এবং বিশেষ লড়াই পদ্ধতির মাধ্যমে ইয়েমেনি বাহিনী এখানে তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

জবাবে সানা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং বেসামরিক এলাকায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায় রিয়াদ। ইয়েমেনি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি আরবের খামিস মুশাইতস্থ কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং তায়েফের কিং ফাহাদ বিমানঘাঁটি থেকে মাত্র তিন দিনে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে ১২১টি পৃথক হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। এসব আক্রমণের মধ্যে আল-জউফের আল-হাজম কেন্দ্রীয় কারাগারে সরাসরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে বন্দীদের পাশাপাশি বহু দর্শনার্থী নারী ও শিশু মারা যান। হাউছি বাহিনীও দ্রুত এর পাল্টাজবাব দেয়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলাকারী ড্রোন বহর ব্যবহার করে তারা সৌদি আরবের আবহা, নাজরান, জাজান ও খামিস মুশাইতের প্রধান সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক আক্রমণ চালায়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট চিত্রেও আরামকোর জাজান তেল শোধনাগার, আসির বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে তীব্র অগ্নিকাণ্ডের তাপীয় চিত্র ধরা পড়েছে। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জ্বালানি কেন্দ্রে আঘাত ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে সেসব স্থানে সাময়িকভাবে উৎপাদন ও দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে।