বালিয়াকান্দিতে মাটি টানা অবৈধ ট্রলির দৌরাত্ম্য ১ বছরে নিহত ৫

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী
Printed Edition

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার প্রায় প্রতিটি সড়কে এখন মাটি টানা অবৈধ ট্রলির দাপটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। শীতের মৌসুম শুরু হতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব মাটিবাহী ট্রলি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলার ১২টি ইটভাটায় মাটি পরিবহনের কাজে দিন-রাত অবাধে চলাচল করে ট্রলিগুলো, ফলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়কপথ।

স্থানীয়রা জানান, অধিকাংশ ট্রলি চালকের নেই কোনো দক্ষতা বা ড্রাইভিং লাইসেন্স। নেই যানবাহন চলাচলের অনুমোদন কিংবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এতে সড়কে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ট্রলি চলাচলের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে অতিরিক্ত ধুলা ও শব্দদূষণ। মাটি ও পলি ছড়িয়ে পড়ে নোংরা হচ্ছে সড়ক। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং ছোট যানবাহনের চালকরা।

বালিয়াকান্দি থানা সূত্র জানায়, গত বছর এসব অবৈধ ট্রলির চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারীসহ পাঁচজন সড়কে নিহত হন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব ট্রলি নিয়ন্ত্রণ করছেন। মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও তা টেকসই প্রভাব ফেলছে না। কিছুদিন পর আগের মতোই ট্রলির দৌরাত্ম্য শুরু হয়ে যায়। পথচারীরা বলেন, ধুলাবালি ও শব্দে চলাচলই দায়। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার। তারা অবৈধ ট্রলি বন্ধ, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অবৈধ মাটি কাটা ও পরিবহনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। লাইসেন্স তদারকিও চলছে। তবে জনবল সীমাবদ্ধতার কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি কঠিন। উল্লেখ্য, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধে নাগরিকরাও মামলা করার সুযোগ রাখেন।