টেকনিক্যাল সেন্টার কি করতে পারবে বাফুফে

Printed Edition
কক্সবাজার রামুর রশীদনগরে এই জমিতেই হওয়ার কথা টেকনিক্যাল সেন্টার : বাফুফে
কক্সবাজার রামুর রশীদনগরে এই জমিতেই হওয়ার কথা টেকনিক্যাল সেন্টার : বাফুফে

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

টাকার অভাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বেশ কিছু কাজ সময়মতো করা সম্ভব হয়নি। সাফ জয়ী নারী ফুটবল দলকে তো এখন পর্যন্ত ঘোষিত দেড় কোটি টাকা পুরস্কার দিতে পারেনি বাফুফে। অতীতে মিয়ানমারে নারী ফুটবল দল এবং কিরগিজস্থানে অনূর্ধ্ব-১৭ যেতে পারেনি টাকার অভাবে। সেখানে উল্টো চিত্র কক্সবাজারে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে। ফিফা টাকা নিয়ে বসে আসে। অথচ বাফুফে সরকারের সবুজ সঙ্কেত না পাওয়ায় শুরুই করতে পারছে না এই টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের কাজ। ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগামের কর্মসূচির অংশ এই টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ। বাফুফে নাম মাত্র মূল্যে কক্সবাজারের রামুর রশীদ নগরের জমিটি কিনতে চায়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, বাফুফেকে নির্ধারিত ৮ কোটি টাকা দামেই টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য এই জমি কিনতে হবে। এই ৮ কোটি টাকাতেই আপত্তি বাফুফে। তাদের বক্তব্য, জমি কিনতেই যদি ৮ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয় তাহলে বাকি কাজ কিভাবে করবে। তা ছাড়া বাফুফে তো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয় যে, তাদের কাছে এত টাকা জমা আছে। অন্য দিকে ফিফা থেকে এই খাতে তিন মিলিয়ন ডলার নেয়ার শেষ সময়সীমা এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর। এই সময়ের মধ্যে টাকা বুঝে না পেলে অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে সেন্টারটি নির্মাণ। হাতে যে সময় এবং নামমাত্র মূল্য নিয়ে যে দূরত্বের সৃষ্টি তাতে ঝুলে গেছে এই টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ।

২০১৬ সালে ফেডারেশন অব ইন্টরন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েন (ফিফা) বাফুফেকে প্রস্তাব দেয় ফিফার টাকায় টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের। ২০২০ সালে এসে বাফুফে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালংয়ে এই টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য ২০ একর জমি খুঁজে পায়। এরপর বাফুফে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের দিয়ে সেখানে এই সেন্টার নির্মাণের ফিজিবিলিটি টেস্ট করে সবুজ সঙ্কেত পায়। তখন শুরু হয় বাফুফের বাকি প্রক্রিয়া। কিন্তু এরপর বেলাসহ পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিবাদের মুখে খুনিয়াপালংয়ে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এরপর কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহায়তায় রামুর রশীদনগরে জমির সন্ধান পায় বাফুফে। এর জন্য ২০ একর জমির প্রয়োজন হলেও সেখানে আছে ১৯.২ একর জমি। তবে ওই জমিতে মসজিদ ও কবরস্থান থাকায় বাফুফের জন্য বরাদ্দ হয় ১৫.২ একর জমি। বাফুফে কোনো ভাবেই মসজিদ ও কবরস্থানের জমিতে টেকনিক্যাল সেন্টার করবে না। প্রায় পাঁচ একর জায়গা ছাড় দিলেও ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষে ফুটবল স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব।

এই জমিতে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য বাফুফে যখন জেলা প্রাশসন, ভূমি অফিস ও পরিবেশ গত ছাড়পত্র হাতে পায় তখনই ভূমি মন্ত্রণালয়ের আপত্তি। তারা নামমাত্র মূল্যে এই জমি বাফুফেকে দেবে না। বাফুফেকে এই জমি কিনতে হবে ৮ কোটি টাকায়। অতীতে বিভিন্ন জমি এই নামমাত্র মূল্যে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর বিগত সরকারের জারি করা এক পরিপত্রে এইনাম মাত্রে জমি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। জানা গেছে, একটি হটিকালচার সেন্টার নির্মাণের জন্য নামমাত্র মূল্যে জমি কিনতে চেয়েছিল একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গেলে তিনি নামমাত্র মূল্যে জমি বিক্রির বিপক্ষে অবস্থান নেন। তখন তার প্রশ্ন ছিল, ‘এত বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য কেন জমি কেনার টাকা বরাদ্দ রাখবে না প্রতিষ্ঠানটি।’ এরপরই ওই পরিপত্র জারি এবং নামমাত্র মূল্যে সরকারি খাস জমি কেনাবেচা বন্ধ আছে। অবশ্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন ক্যান্টনমেন্ট নির্মাণে নামমাত্র মূল্যে জমি কেনা যায়। বাফুফের বক্তব্য, ভূমি মন্ত্রণালয় চাইলেই নামমাত্র মূল্যে এই জমি বাফুফেকে দিতে পারে। উল্লেখ্য, বাফুফে এই জমি পাওয়ার সব কাগজ ফিফাকে দেয়ার পরই টাকা দেবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বময় সংস্থাটি।

এখন বাফুফের বক্তব্য, ফিফার টাকায় টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণটাও তো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাহলে তারা কেন এর জন্য নামমাত্র মূল্যে জমি কিনতে পারবে না। উল্লেখ্য, ফিফার অর্থায়নে এই টেকনিক্যাল সেন্টার থাকবে দু’টি ঘাসের মাঠ, একটি টার্ফের মাঠ, একটি ১০০ ফুটবলার থাকার মতো ডরমেটরি, একটি জিমন্যাসিয়াম ও একটি সুইমিংপুল।

বাফুফে ফের সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবে নামমাত্র মূল্যে জমিটি কিনতে। ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহেদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী জানান, বাফুফে কিভাবে ৮ কোটি টাকা ব্যয় করে টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য জমি ক্রয় করবে। ফেডারেশন তো আর আর্থিকভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। আমরা আবার সরকারের কাছে আবেদন করব নাম মাত্র মূল্যে এই জমি দিতে।

এ দিকে জানা গেছে, বাফুফেও ফিফার কাছে আবার আবেদন করবে টাকা বরাদ্দের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে। যেমনটা গত বছর অনুরোধ করে সফল হয়েছিল।