শেখ সাবীর আলী ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উৎপাদন বেশি ও বাজারে চাহিদা কম থাকায় আলুর দাম কমে গেছে। এতে হিমাগারে সংরক্ষিত আলু বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন, পরিবহন, বাছাই ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি ৬২ কেজির এক বস্তা আলুতে গড়ে প্রায় ৪৬০ টাকা লোকসান হচ্ছে।
ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত হিমাগারে সংরক্ষিত এক লাখ ৭৮ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার বস্তা খালাস হয়েছে। এখনো এক লাখ ৪৩ হাজার বস্তা আলু পড়ে আছে। হিমাগার কর্তৃপক্ষ আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এসব আলু খালাস করতে বলেছে।
বর্তমানে হিমাগার গেটে ৬২ কেজির এক বস্তা আলু ৯২০ থেকে ৯৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন, পরিবহন, বাছাই ও সংরক্ষণ ব্যয়সহ প্রতি বস্তায় কৃষকের খরচ পড়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০ টাকা। ফলে ৯২০ টাকা দরে বিক্রি করলে ৪৮০ টাকা এবং ৯৬০ টাকা দরে বিক্রি করলে ৪৪০ টাকা লোকসান হচ্ছে।
বাজনাপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন, আমড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ ও খড়মপুর গ্রামের আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, আলুর দাম কম থাকায় তারা হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না। তুললেও বস্তাপ্রতি প্রায় ৪৫০ টাকা লোকসান হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে এক হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৩৭ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন।
এদিকে আমন মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষকদের জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ অর্থের প্রয়োজন। সাধারণত এ সময় হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করে কৃষকরা এসব খরচ মেটান। কিন্তু বাজারমূল্য কম থাকায় আলু বিক্রি করতে না পারায় তাদের মূলধন আটকে আছে।
আলুর দরপতনে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফুলবাড়ী পৌরবাজারের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম ও জয়ন্ত সাহা বলেন, বিভিন্ন বাজারে আলু পাঠিয়েও লাভ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রতি ট্রাকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী কেনাবেচা কমিয়ে দিয়েছেন।
মৌসুমী ব্যবসায়ী ফেরাজুল ইসলাম ও নূরুল হক বলেন, অনেকে ঋণ নিয়ে আলু কিনে হিমাগারে রেখেছিলেন। এখন বাজার পড়ে যাওয়ায় আলু বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আব্দুল আউয়াল মিয়া বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ আলু খালাস না হলে হিমাগার কর্তৃপক্ষও সমস্যায় পড়বে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় আলুর দাম কমেছে। বাজার সচল করা এবং কৃষকরা যাতে যৌক্তিক দাম পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।



