সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই : শাকিল

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কমিটিতে পরিবর্তন এসেছে ২৭টি ফেডারেশনে। জনপ্রিয়তার দিক থেকে ব্যাডমিন্টন পিছিয়ে নেই। এমন একটি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাবেক খেলোয়াড়-কর্মকর্তা-সংগঠক কাজী হাসিবুর রহমান শাকিল। কিছুটা আফসোস আছে কালক্ষেপণের জন্য। খেলা থেকে যখন অবসরে গিয়েছেন তখন থেকেই চিন্তা চেতনায় ব্যাডমিন্টনের উন্নতি-শাটলারদের উন্নতির কথা ভেবেছেন। জানালেন সবাইকে নিয়েই ব্যাডমিন্টনকে এগিয়ে নিতে চান।

তার কথায়, ‘অবসরে যাওয়ার ২০০৬ সালে একবার ফেডারেশনের সদস্য হয়েছিলাম। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি- বঞ্চিত হয়েছি। রাজনৈতিক এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক কারণে হয়নি। কারো যদি কাজ করার ইচ্ছে থাকে, পদ ছাড়াও করা যায়। সবাই ব্যাডমিন্টনের উন্নতি চায় তাহলে এক কাজ করতে অসুবিধা কোথায়।’

গোয়াংজুতে কোচেস ট্রেনিং করে জুনিয়র ও সিনিয়র লেভেলে জাতীয় দলকে কোচিং করিয়েছেন শাকিল। ব্যাডমিন্টনের উন্নতিকল্পে জানালেন, ‘কিছু পরিকল্পনা তো রয়েছেই। তৃণমূল থেকে শাটলার বাছাই (অনূর্ধ্ব ১২) করা। দীর্ঘমেয়াদে বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ। নিয়মিত স্কুল টুর্নামেন্ট চালু করা। নতুন কুঁড়ির শাটলারদের নার্সিং করা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পনা করে উন্নতিকল্পে কাজ করা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শাটলারদের মান বৃদ্ধি করা। জুনিয়র ন্যাশনাল চালু করা। র‌্যাংকিং টুর্নামেন্ট নিয়মিত করা। অনেকদিন পর প্রথম বিভাগ লিগ হয়েছে। এটির ধারাবাহিকতা ধরে রাখা (ক্লাবগুলোর সহযোগিতা সাপেক্ষে)। অতীতে ব্যাডমিন্টনে অংশ নেয়া মোহামেডান, বিমান, সূর্যতরুণ ক্লাবগুলোকে ফিরিয়ে আনা। প্লাস আরো নতুন কিছু ক্লাবকে সম্পৃক্ত করা।’ বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে সচেতন হতে চান তিনি। আগে কয়েকটি ধাপে পাসপোর্ট, স্কুল সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন, কলেজ/ভার্সিটি আইডি কার্ড দেখে, দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ হতো। তবে শাকিল জানালেন, ‘যে নিয়মে বয়সের বিতর্ক হবে না, শাটলাররা বঞ্চিত হবে না, সবার সাথে আলোচনা করে একটা গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নিবো ইনশাআল্লাহ।’

জাতীয় টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১০ লাখ প্রাইজমানি দিয়ে গিয়েছিলেন আগের কমিটি। ভবিষ্যতে অন্ততপক্ষে সেটিই ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নতুন অ্যাডহক কিমিটির। সুযোগ পেলে প্রাইজমানি আরো বাড়তেও পারে বলে জানান নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক। বেশির ভাগ ফেডারেশন যে বিষয়টি মোকাবেলা করে, সেটি হলো ফান্ড। উন্নয়নকল্পে কিছু করতে গেলেই বলেন ফান্ড নাই।

সুন্দর একটি জবাব দিলেন শাকিল, ‘ফান্ডের বিষয়টি বিবেচনা করেই এবার অ্যাডহক কমিটিতে কয়েকজন শিল্পপতি রাখা হয়েছে, যাতে তারা আর্থিক সাপোর্ট দিতে পারেন। আর আমাদের সবার প্রচেষ্টা তো থাকবেই। আশা করছি আর্থিক সমস্যায় ভুগবে না ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন।’

ব্যাডমিন্টন নিয়ে নতুন সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যাশা, দুর্নীতিমুক্ত ফেডারেশন, প্লেয়ারদের মান উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নেয়া।