যশোর অফিস
যশোর সদর উপজেলায় বোরো মৌসুমে সারের সঙ্কট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষকেরা। তাদের দাবি, খুচরা ডিলাররা সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন এবং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন ডিলাররা।
সরজমিন বিভিন্ন গ্রাম ও বাজার গিয়ে এবং কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চাহিদামতো সার পাননি অধিকাংশ চাষি। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের।
সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের বাগেরহাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগ শুনতে পেয়ে একাধিক কৃষক সেখানে জড়ো হন। তারা জানান, ডিলার তুহিন ট্রেডার্সের মালিক মোশারফ হোসেন বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। কোনো ডিলারের কাছেই নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। কেজিতে চার-পাঁচ টাকা বেশি দিলে তবেই সার পাওয়া যায়।
তেঁতুলিয়া গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম বলেন, ডিলার মোশারফ স্থানীয় কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করেন না। বাইরে বেশি দামে বিক্রি করেন তিনি। অথচ বাড়তি দাম দিলেই তার কাছ থেকে সার পাওয়া যায়। কৃষকদের আরো অভিযোগ, মোশারফের ছেলে তুহিন অনেক সময় ক্রেতাদের সাথে ভীষণ রকমের দুর্ব্যবহার করেন।
সরকার নির্ধারিত সারের দাম প্রতিকেজি ডিএপি ২১ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকা, এমওপি ২০ টাকা ও ইউরিয়া ২৭ টাকা। কিন্তু কৃষকদের দাবি, এসব সার যথাক্রমে ৩০, ৩২, ২৬ ও ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ডিলাররা। একাধিক সূত্র জানায়, কিছু ডিলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে এ অনিয়ম করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত ডিলারদের গুদাম পরিদর্শন না করে তাদের অফিসে ডেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে দেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ডিলার মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, কিছু কৃষক আমাদের কাছ থেকে সার কিনে অন্য দোকানে বিক্রি করে দেয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, বোরো মৌসুমে বর্তমানে সারের বড় ধরনের সঙ্কট থাকার কথা নয়। তার পরও যদি কোনো ডিলার অনিয়ম করে থাকেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



