ট্রাইব্যুনালে আব্দুল্লাহিল আমান আযমীর জবানবন্দী

২৯০৮ দিন আমি আকাশ দেখিনি চাঁদ-সূর্য ও গাছ-মাটিও দেখিনি

ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে গুম ও বন্দী জীবনের অবর্ণনীয় নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। জবানবন্দী দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই হাজার নয়শত আট দিন আমি আকাশ দেখিনি, চাঁদ-সূর্য দেখিনি, মেঘ-বৃষ্টি দেখিনি, গাছ-মাটি দেখিনি। সমগ্র দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েই দীর্ঘদিন যে নির্যাতনের শিকার হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

  • জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
  • মানবতাবিরোধী অপরাধ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে গুম ও বন্দী জীবনের অবর্ণনীয় নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। জবানবন্দী দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই হাজার নয়শত আট দিন আমি আকাশ দেখিনি, চাঁদ-সূর্য দেখিনি, মেঘ-বৃষ্টি দেখিনি, গাছ-মাটি দেখিনি। সমগ্র দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েই দীর্ঘদিন যে নির্যাতনের শিকার হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

গতকাল রোববার বিকেলে জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের সময় এ কথা জানান তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তার এই জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। আযমী এই মামলার তিন নম্বর সাক্ষী। জবানবন্দীতে ভুক্তভোগী এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা বলেন, আমার নাম আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। বর্তমান বয়স ৬৭ বছর। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করি। ২০০৯ সালের ২৪ জুন আওয়ামী লীগ সরকার বিনা অপরাধে, বিনা তদন্তে, বিনা বিচারে সেনাবাহিনীর সব রীতিনীতি ভঙ্গ করে নজিরবিহীনভাবে আমার পেনশনের সব সুবিধা হরণ করে আমাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করে। এর পর আমাকে সেনানিবাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট আমাকে অপহরণের পূর্ব পর্যন্ত সাত বছর দুই মাস গোয়েন্দা বাহিনী দ্বারা তৎকালীন সরকার নানাভাবে হয়রানি করে। ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবৈধ বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে আমাকে অবসর প্রদান করে।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ০৯:৩০ ঘটিকায় আমার বড় মগবাজারের বাসায় অনেকগুলো মাইক্রোবাসসহ ৫০-৬০ জন সাধারণ পোশাকধারী লোক আসে। বাসার ভেতরে বেশ কিছু সংখ্যক লোক প্রবেশ করে। তারা আমাকে হাতকড়া পরানোর জন্য আমার হাত দিতে বলছিল। আমি তাদের নিকট পরিচয় জানতে চাই, পরিচয়পত্র দেখতে চাই এবং আমার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে কি না তা দেখতে চাই। তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোক কি না আমি তাও জানতে চাই। তারা আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অত্যন্ত উত্তেজিতভাবে আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে আমাকে বারবার হাত দেয়ার জন্য বলতে থাকে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল তারা আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করবে। এই পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে আমি দুই হাত এগিয়ে দিই এবং তারা প্রথমে আমার হাতে হাতকড়া পরায় ও চোখ বাঁধে। লিফটে করে নিচে নামিয়ে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে মাথা ও মুখের ওপর জমটুপি পরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরে তারা আমাকে নিয়ে রওনা করে। উল্লেখ্য, যখন জমটুপি পরায় তখন চোখের বাঁধনটা সামান্য নেমে যায়। এর ফলে আমি চোখের বাঁধনের ওপর দিয়ে বাইরের আলো সামান্য দেখতে পাচ্ছিলাম।

জমটুপি পরানোর আগেই আমি আমাকে অপহরণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে লে. কর্নেল মকছুরুলকে দেখতে পাই এবং তাকে চিনতে পারি। আমার জানা ছিল যে, সে ডিজিএফআই-এর একজন কর্মকর্তা। আমি যে তাকে চিনতে পেরেছি সেটা আমি তাকে বুঝতে দিই নাই। কারণ আমি তাকে চিনতে পেরেছি জানতে পারলে তা আমার জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে বলে মনে করছিলাম। উল্লেখ্য, এই অফিসার আমার সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে এবং একপর্যায়ে আমাকে তুই-তোকারি করে। আমার মুক্তির পরে আমি জানতে পারি যে, যারা আমার বাড়িতে এসেছিল তারা আমার বাড়ির সকল স্টাফকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে, আমার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করে, আমার বাসার যুবতী গৃহপরিচারিকার গায়ে হাত তোলে, আমার ম্যানেজারকে মাটিতে ফেলে তার ওপর লাফালাফি করে। বাসার বিভিন্ন আলমারি কোনো-কোনোটা খুলে এবং কোনো-কোনোটার তালা ভেঙে তল্লাশি করে। তারা আমার স্ত্রীকেও একপ্রকার জোর করে (গায়ে হাত দেয় নাই) তাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমার স্ত্রী তখন আমার মায়ের হাত ধরে বলেছিল, ‘আমাকে নিতে হলে আমার মা-সহ নিতে হবে’। এরপর তারা আমার স্ত্রীকে আর কিছু বলেনি। বাসা থেকে তারা কয়েকটা মোবাইল এবং বেশ কিছু কাগজপত্র নিয়ে যায়। আমি আরো জানতে পারি আমাদের বিল্ডিংয়ের অন্যান্য ফ্ল্যাটে গিয়েও তারা হয়রানি করে। এলাকার সকল সিসি ক্যামেরা তারা ভেঙে ফেলে এবং যে বাসায় সিসি ক্যামেরার রেকর্ডার ছিল সেই বাসায় গিয়ে তাদেরকে হয়রানি করে এবং রেকর্ডারটি নিয়ে যায়। পুরো এলাকায় তারা একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে আমাকে নিয়ে যায়।

যেহেতু আমি বাইরের আলো আবছা দেখতে পাচ্ছিলাম তাই আমাকে কোন রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তা আমি বুঝতে পারছিলাম। তারা মগবাজার ফ্লাইওভার দিয়ে মহাখালী ব্রিজের নিচে দিয়ে এয়ারপোর্টের পূর্ব দিকের রাস্তা দিয়ে র‌্যাব-১ এর দক্ষিণ গেট দিয়ে ঢুকে এবং উত্তর দিক দিয়ে বেরিয়ে মূল রাস্তা পার হয়ে পশ্চিম দিকে র‌্যাব সদর দফতরের সামনে দিয়ে এয়ারপোর্টের পূর্ব দিক দিয়ে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের সামনে দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করে। এরপর তারা কচুক্ষেতে অবস্থিত ডিজিএফআই কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে। গাড়ি থেকে নামিয়ে আমাকে ধরে ধরে একটি সেলের ভেতরে ঢুকিয়ে আমার জমটুপি, চোখের বাঁধন ও হাতকড়া খুলে দেয়।

পর দিন ২৩ তারিখ ভোরের আলো হলে সেলের দক্ষিণ দিকে দুটো ভেন্টিলেটর দিয়ে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের দক্ষিণে অবস্থিত ঢাকা স্টেশন অফিসার্স মেস-বি চিনতে পারি। উল্লেখ্য, এই মেসটি ১৯৮২ সালে নির্মিত হয়েছিল। আমি তখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে চাকরিরত ছিলাম এবং আমি ওই মেসের প্রথম বাসিন্দাদের মধ্যে একজন ছিলাম। ১৯৮২-৮৩ সালে আমি ওই মেসে থেকেছি। তখন থেকেই আমার জানা ছিল যে, মেসের উত্তর দিকে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের সর্বদক্ষিণে যেই ভবনটি অবস্থিত সেটা জেআইসি (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল)। তাই, আমি যেহেতু বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাকে কচুক্ষেতে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে সেহেতু ২৩ তারিখ সকালে আমার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যেই আমি ভেন্টিলেটর দিয়ে আমার পরিচিত মেস কমপ্লেক্স দেখা যায় কি না সেই চেষ্টা করেছিলাম এবং তৎমর্মে নিশ্চিত হয়েছিলাম।

৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত আমাকে ওই সেলেই রাখা হয়েছিল। তবে অপহরণের পর দিন আমি অজ্ঞান হয়ে গেলে সেই সেলের উত্তরে অবস্থিত মেডিক্যাল রুমে (যা আমি পরে জানতে পেরেছি) স্থানান্তর করা হয়েছিল।

আটক থাকাকালীন আমার খাদ্য, চিকিৎসা এবং অন্যান্য নানা বিষয়ে সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সেলে কোনো প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ছিল না। দুই হাজার নয়শত আট দিন আমি আকাশ দেখিনি, চাঁদ-সূর্য দেখিনি, মেঘ-বৃষ্টি দেখিনি, গাছ-মাটি দেখিনি। সমগ্র দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দীর্ঘদিন যে নির্যাতনের শিকার হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এ ছাড়াও, সেলের চারদিকে ২৪ ঘণ্টা নানা রকমের আওয়াজ হতো, যার ফলে আমার সার্বক্ষিণক মাথাব্যথা নিয়ে থাকতে হয়েছে। যখন মসজিদে আজান দিতো অথবা মসজিদ থেকে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু বা অন্য কোনো বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়া হতো, তখন নানা রকম মেশিন দিয়ে আরো আওয়াজ করা হতো। আমি জানতে পেরেছি এই আওয়াজ করার উদ্দেশ্য হলো বাইরে থেকে কোনো শব্দ যেন ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে কিংবা সেলে কাউকে নির্যাতন করা হলে তার আর্তনাদের আওয়াজ যেন বাইরে না যায়। মুক্তির পরে মেডিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে আমার শ্রবণশক্তি শতকরা ৫০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।

সেখানে খাদ্যের মান অত্যন্ত নি¤œ ছিল। খাবারের নি¤œমানের জন্য ছয় বছর চার মাস পর্যন্ত আমি কখনো তিন বেলা খাবার খেতে পারিনি। খাবার এত নি¤œমানের ছিল যে, কখনো কখনো সামান্য ভাত খেয়েই থেকেছি।

চিকিৎসা সেখানে অত্যন্ত অপ্রতুল ছিল। আমার চোখ, কান, দাঁতের সমস্যাসহ চর্মরোগ ও পেটের পীড়ায় সম্পূর্ণ সময় আমাকে ভুগতে হয়েছে। আমি বহুবার আমার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলেও আমাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি; আমি মোট চারবার অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম, আমার একিউট কিডনি ইনফেকশন হয়েছিল, আমার করোনা হয়েছিল, আমার দুটো দাঁত ভেঙে গিয়েছে, চোখের পাওয়ারের সমস্যার কারণে লেখাপড়া করতে কষ্ট হতো।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যখন নিয়ে যেত তখনো চোখ, হাত বাঁধা এবং জমটুপি পরানো হতো। চোখ এত জোরে বাঁধতো যে, আমার চোখের মণিতে প্রচণ্ড ব্যথা করতো এবং নাকে এত চাপ লাগতো যে শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হতো। আমি বহুবার অনুরোধ করার পরেও তারা এ ব্যাপারে নির্বিকার ছিল।

প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসা এত অপ্রতুল ছিল যে, একই সময় আমি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে শারীরিক যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকতাম। কখনও কখনও আমার অবস্থা এতো খারাপ হয়েছিল যে আমাকে একজন বা কখনও দুইজন ধরে বিছানা থেকে উঠানো হতো। খাবার সময় আমার চেয়ারের পাশে একজন দাঁড়িয়ে থাকতো যেন দুর্বলতার কারণে আমি মাটিতে পড়ে না যাই। কোনো একসময় আমার ডায়াবেটিস বর্ডার লাইনে এলে ডাক্তার আমাকে তিন বেলা হাঁটাহাঁটি করতে বলেন। আমি এত দুর্বল ছিলাম যে, একা হাঁটতে পারতাম না। তিন বেলা আমাকে ধরে ধরে হাঁটাতে হতো। একপর্যায়ে সেটাও বন্ধ করে দিলে আমি দেয়াল ধরে ধরে আস্তে আস্তে হাঁটার চেষ্টা করতাম। সেলটি গরমের সময় অত্যন্ত গরম থাকতো এবং শীতের সময় প্রচণ্ড ঠাণ্ডা থাকতো। গরমের সময় আমার এত ঘাম হতো যে, বহুবার আমার ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স হতো। আমার লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য কখনও কখনও আমাকে খাবারের সাথে লবণের ট্যাবলেট (সোডিকোর) খাবার জন্য ডাক্তারের নির্দেশ ছিল।

আযমীর সাক্ষ্য গ্রহণ আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা। এ দিন সকালে এ মামলায় গ্রেফতার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো: সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

পলাতক ১০ আসামি হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব:) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব:) হামিদুল হক, শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) মখছুরুল হক।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন গুমের শিকার বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী। দ্বিতীয় সাক্ষীর জবানবন্দী দেন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এ মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।