বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ জয়ের আশা টাইগ্রেসদের

Printed Edition
আগামী ১২ জুন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে শুরু হবে নারী টি-২০ বিশ্বকাপ। তার আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় (স্কটল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস-বাংলাদেশ) সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ৩০ ও ৩১ মে এবং ২ জুন ও ৪ জুন ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচগুলো খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজ এবং দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার বড় সুযোগ। ১৪ জুন বার্মিংহামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ১৭ জুন লিডসে অস্ট্রেলিয়া, ২০ জুন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পাকিস্তান, একই মাঠে ২৫ জুন ভারত এবং ২৮ জুন লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টি-২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন স্বপ্ন ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে ইংল্যান্ডের পথে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সর্বশেষ তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে কোনো ম্যাচে জয় না পেলেও দলটির লক্ষ্য এবার শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির কণ্ঠেও আত্মবিশ্বাসের সুর। স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিতে গতকাল রাত ১টা ৪০ মিনিটে এবং আজ সকালে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দেশ ছাড়ছে টাইগ্রেসরা।

২০১৪ সাল থেকে নিয়মিত নারী টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি টাইগ্রেসরা। বিশ্বকাপের আগের ৬ আসরে ২৫ ম্যাচ খেলে মাত্র ৩টিতে জিতেছে তারা। বাকি ২২ ম্যাচই হেরেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দলটির হতাশাজনক পারফরম্যান্স থাকলেও বিশ্বকাপ ঘিরে আশাবাদী অধিনায়ক জ্যোতি।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তার কথা, ‘বিশ্বকাপের মঞ্চে শুধু ভালো খেলাই নয়, আমরা ম্যাচ জিততে চাই। অন্তত দুই থেকে তিনটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। দলে এখন যে অবস্থান, তাতে কয়েকজন ক্রিকেটার অনেক বেশি ধারাবাহিক। বিশেষ করে টি-২০ সংস্করণে তারা ব্যক্তিগতভাবে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দল হিসেবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে অবশ্যই আগের অনেক বিশ্বকাপের তুলনায় ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।’

স্কটল্যান্ডের কন্ডিশনকে ইংল্যান্ডকে প্রস্তুতির জন্য আদর্শ মনে করছেন জ্যোতি। ‘স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের কন্ডিশন, আবহাওয়া ও উইকেট প্রায় একই রকম। এই সিরিজ আমাদেরকে ইংল্যান্ডে খেলার জন্য অনেক বেশি সাহায্য করবে। যদি আমরা সিরিজটা জিততে পারি, সেটা ইতিবাচক হবে।’

গত জানুয়ারিতে টি-২০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটিংয়ে ধীরগতি, ফ্ল্যাট উইকেটে রান তুলতে না পারা এবং পেসার সঙ্কটের মতো সমস্যাগুলো ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। তবে প্রধান কোচ সরোয়ার ইমরান মনে করেন, প্রস্তুতির দিক থেকে এবার দল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। অনুশীলনে যে কাজগুলো করেছি, সেগুলো ম্যাচে করতে পারলে ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট ১০০-এর ওপরে থাকবে।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে তিন ম্যাচে জ্যোতির রান মাত্র ২০। বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই অধিনায়ক, ‘সবাই চায় বিশ্বকাপে ভালো খেলতে। আমার কাছ থেকে দল অনেক প্রত্যাশা রাখে। পরিস্থিতি যেমন ডিমান্ড করবে, চেষ্টা করব সেভাবেই অবদান রাখতে।’

বাংলাদেশের শক্তির জায়গা বরাবরের মতোই স্পিন। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনেও মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে খেলার ভাবনা রয়েছে দলের। সরোয়ার জানান, ‘ব্যাটিং, ফিল্ডিং, স্পিন বোলিংÑ এই তিনটি বিভাগ আমরা শক্তিশালী করতে চাই। পেস বোলিং নিয়ে আমরা এত মাথা ঘামাচ্ছি না। মারুফা যদি একটা ভালো শুরু দিতে পারে, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারব।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডস। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকলেও টি-২০ ক্রিকেটের অনিশ্চয়তাকেই ভরসা করছেন কোচ সরোয়ার ইমরান। তার মতে, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সাথে ব্যবধান কিছুটা বেশি হলেও এই সংস্করণে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব।

বিশ্বকাপের আগে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ায়ও সন্তুষ্ট বাংলাদেশ অধিনায়ক। ‘প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে যদি বলি, আগে আইসিসির বড় কোনো টুর্নামেন্টের আগে আমরা সাধারণত আন্তর্জাতিক সিরিজ বা পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতাম না। এটা সবসময়ই আক্ষেপের জায়গা ছিল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা ইতোমধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলেছি, সামনে ত্রিদেশীয় সিরিজে আরো চারটি ম্যাচ খেলব। তাই এবার আদর্শ প্রস্তুতি হয়েছে।’