মজুদ শেষ হওয়ায় এক্সিলারেট টার্মিনাল বন্ধ কবে এলএনজি আসবে জানেন না কেউ

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম

এলএনজিবাহী জাহাজ না আসায় মজুদ সঙ্কটে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এমএলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল বেলা ৩টার দিকে টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বর্তমানে শুধু সামিটের এসএলএনজি টার্মিনাল থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এলএনজি বোঝাই নতুন একটি জাহাজ আজ বৃহস্পতিবার মহেশখালী পৌঁছার শিডিউল থাকলেও ওই জাহাজের এলএনজির জোগান যাবে বর্তমানে সচল সামিটের টার্মিনালটিতে। এক্সিলারেটের টার্মিনালের জন্য নতুন এলএনজি জাহাজ কবে আসবে তাও সুনির্দিষ্ট করে বলছেন না পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সংশ্লিষ্টরা। ফলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সহসা তথা চলতি মাসে উন্নতির সম্ভবনা একেবারেই ক্ষীণ বলে জানা গেছে।

অবশ্য পেট্রোবাংলার একটি সূত্র আগামী ২৩/২৪ আগস্টের দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালের জন্য একটি জাহাজ আসার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে। তবে জাহাজটি কবে নাগাদ বাংলাদেশে পৌঁছাবে সেই নিশ্চয়তা এখনো মিলেনি। ফলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েই যাচ্ছে।

মহেশখালীর পথে মল আজুর

এলএনজি বোঝাই ট্যাংকার জাহাজ মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী মল আজুর আজল আজ চট্টগ্রাম বন্দরসীমায় পৌঁছার কথা রয়েছে। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট ইন্টারপোর্ট শিপ এজেন্টস লিমিটেডের কর্মকর্তা অনীক চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী নাইজেরিয়ার বন্নি বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ৬৮ হাজার ৫৪৮ মে টন এলএনজি বোঝাই জাহাজটি আজ মহেশখালীতে পৌঁছার শিডিউল এখন পর্যন্ত ঠিক আছে। আরপিজিসিএলের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাহাজটি এসএলএনজি টার্মিনালে কার্গো স্থানান্তর করবে। তবে মেরিন ট্রাফিক জাহাজটির বর্তমান অবস্থান সঠিকভাবে জানাতে পারছে না।

গত ২১ জুলাই মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। দৈনিক এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজিসহ দেশে গ্যাসের উৎপাদন ক্ষমতা তিন হাজার ৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে গতকাল ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজিসহ গ্যাস সরবরাহ হয় দুই হাজার ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর যে পর্যায়ে নেমেছিল গ্যাসের সরবরাহ, মাঝে টার্মিনালটি থেকে সীমিত সবরাহ শুরু হয়ে কিছুটা উন্নতি হলেও গতকাল তা দুর্ঘটনার সময়কার অবস্থায় নেমে এসেছে।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডে (জিটিসিএল) ডিজিএম (অপারেশন, চট্টগ্রাম) শফিউদ্দিন মো: ফরহাদ ওমর নয়া দিগন্তকে বলেন, এলএনজির সরবরাহ ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। এর মধ্য থেকে চট্টগ্রামের জন্য ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।