দেবিদ্বার সরকারি কলেজের জমি দখল, প্রাচীর ভেঙে দিলো শিক্ষার্থীরা

Printed Edition

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

কুমিল্লার দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের হোস্টেলসংলগ্ন কোটি টাকার জমি দখল করে রাতের আঁধারে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা হাতুড়ি দিয়ে নবনির্মিত প্রাচীরটি ভেঙে ফেলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হোস্টেল সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে একটি পক্ষ পানি নিষ্কাশনের অজুহাতে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ সময় হোস্টেল ক্যাম্পাসের প্রায় ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়। তবে ড্রেন নির্মাণ না করে রাতারাতি মাটি ভরাট করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে কলেজের একটি অংশ দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে কলেজ ক্যাম্পাস ও হোস্টেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে কয়েক শ শিক্ষার্থী হোস্টেল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা অবৈধভাবে নির্মিত প্রাচীরটি ভেঙে ফেলেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, পানি নিষ্কাশনের নামে গাছ কেটে ও দেয়াল নির্মাণ করে কলেজের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। ক্যাম্পাস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব ধরনের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সদ্য যোগদান করা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান পারভেজ তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বর্তমান অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

দেবিদ্বার পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ফয়সল উদ্দিন বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও যাতায়াতকারী বাসিন্দাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গাছ কাটার অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। তবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশোক বিক্রম চাকমা বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জায়গাটি কলেজের মালিকানাধীন। কয়েকটি পরিবারের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছিল। দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।