বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে পরমাণু অস্ত্রই একমাত্র ভরসা : পুতিন

Printed Edition

রয়টার্স

নতুন করে বৈশ্বিক সামরিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কার মধ্যেই ক্রেমলিন জানিয়েছে, পৃথিবীকে আরেকটি প্রলয়ঙ্করী বিশ্বযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করার একমাত্র রক্ষাকবচ বা মাধ্যম হলো পারমাণবিক অস্ত্র। বুধবার রাশিয়ার সরকারি বাসভবন ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সর্বশেষ কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুই পারমাণবিক পরাশক্তির অস্ত্র মোতায়েনের ওপর যে কঠোর আইনি বিধিনিষেধ ছিল, তা কার্যত বিলুপ্ত হলো।

যদিও রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের সামরিক সংলাপ পুনরায় চালু করতে একমত হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি নবায়ন কিংবা এর বিকল্প নতুন কোনো চুক্তির কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। মস্কোয় আয়োজিত এক পররাষ্ট্রনীতি ফোরামে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মন্তব্য করেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে ভেঙে পড়ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা ছাড়া বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানোর মতো আর কোনো বিকল্প অবশিষ্ট নেই। এটিই মূলত দুনিয়াকে বড় ধরনের যুদ্ধবিগ্রহ থেকে আগলে রাখছে।’ পেসকভ আরো হুঁশিয়ারি দেন যে, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে ভবিষ্যতে এমন সব মারণাস্ত্র তৈরি হতে পারে, যেগুলোর ধ্বংসক্ষমতা প্রচলিত পারমাণবিক অস্ত্রের সমকক্ষ হবে। অবশ্য ইউক্রেন সঙ্ঘাত চলাকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বেশ কয়েকবার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সুপ্ত ইঙ্গিত দিয়েছেন, যার কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর বিরুদ্ধে অযথা শক্তি প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছে। অন্য দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ত্রিপক্ষীয় নতুন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির পক্ষে মত দিলেও বেইজিং সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের দাবি, নতুন কোনো চুক্তিতে যদি চীনকে জোরপূর্বক আনা হয়, তবে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকেও এই চুক্তির আওতায় আনতে হবে।