গ্যাসসঙ্কটে ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

বিভাগজুড়ে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং

Printed Edition

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ

গ্যাসসঙ্কটে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১০ জুলাই থেকে টানা ২৮ দিন ধরে কেন্দ্রটি অচল থাকায় ময়মনসিংহ বিভাগজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নগরীতে দৈনিক ৩-৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের তথ্য দিলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও কোথাও ৮-১০ ঘণ্টা এবং গ্রামাঞ্চলে ১২-১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

আরপিসিএল সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসসঙ্কটে ভুগছে। স্বাভাবিক সময়ে ২১০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘদিন গ্যাসের চাপ কম থাকায় ৩০-৩৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয় না এই কেন্দ্রটি থেকে। এ দিকে সর্বশেষ বিগত ২৭ দিন ধরে এই কেন্দ্রের উৎপাদন নেমে এসেছে একেবারে শূন্যের কোঠায়।

জানা যায়, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে শম্ভুগঞ্জে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিন ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আরপিসিএল। কেন্দ্রটিতে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করে দেয় গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।

নির্মাণের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে গ্যাসসঙ্কটে কেন্দ্রটির উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আসছে। ২০০৭ সালের পর দেশে গ্যাসেরসঙ্কট তীব্রতর হলে এ কেন্দ্রেও সরবরাহ আনুপাতিকহারে আরো কমতে থাকে। সীমিত গ্যাসে এত দিন উৎপাদন চালু রাখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হচ্ছে না।

আরপিসিএলের কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের কোনো কোনো মাসে কেন্দ্রটির উৎপাদন ৪০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটির প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৫ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে তা ছিল ৬৫-৭০ শতাংশ।

জানা যায়, শুধু শম্ভুগঞ্জের কেন্দ্রেই নয়, একই সময়ে গ্যাসসঙ্কটে ময়মনসিংহ অঞ্চলের আরো দু’টি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েই চলেছে।

নগরীর কাঁচিঝুলি এলাকার বাসিন্দা ও নারী উদ্যোক্তা শেফালী আক্তার বলেন, আগে দিনে এক-দুই বার লোডশেডিং হলেও এখন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যায়। রাতেও একই অবস্থা। এক দিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্য দিকে গ্যাসসঙ্কট- দুই সঙ্কটে পড়ে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে সেচ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, খামার ও গৃহস্থালি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গরমে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ মানুষও বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ গত সোমবার বলেন, গ্যাসসঙ্কটের কারণে ২১০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি ২৬ দিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাব ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ সরবরাহেও পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে দ্রুতই কেন্দ্রটির উৎপাদন আবার শুরু করা সম্ভব হবে।

গ্যাসসঙ্কটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এমন বিপুল অর্থে নির্মিত কেন্দ্রটির সক্ষমতা কাজে না লাগায় শিল্পখাতে বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়েও বর্তমানে প্রশ্ন উঠেছে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎসঙ্কট কবে কাটবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।