চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের ডবলমুরিং ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো: আলমগীর ও সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে জুলাই আন্দোলনের সময় লুণ্ঠিত দু’টি ৯ এমএম পিস্তলসহ মোট তিনটি বিদেশী পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও দুই হাজার পিস ইয়াবা জব্ধ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী আলমগীরকে শনিবার ডবলমুরিং মডেল থানাধীন ঝর্ণাপাড়া রেলবিট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ডবলমুরিং মডেল থানা থেকে লুণ্ঠিত দু’টি ৯ এমএম পিস্তলসহ দুই হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। অভিযানকালে আলমগীরের অনুসারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং গুলি করে। তখন আত্মরক্ষার্থে পুলিশও ২৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
পুলিশ আরো জানিয়েছে, হামলাকারীদের গুলি ও ইট-পাটকেলের আঘাতে আগ্রাবাদ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো: মোবিনুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত এসআই মোবিনুল ইসলামকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অন্যান্য পুলিশ সদস্যরাও চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, সন্ত্রাসী মো: আলমগীরের বিরুদ্ধে ১২টি মাদক, তিনটি বিস্ফোরকদ্রব্যসহ অন্যান্য আইনে আরো ৯টি মামলাসহ মোট ২৪টি মামলা রয়েছে।
ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী গ্রেফতার : এদিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিদেশী পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দিনগত রাতে অক্সিজেন-কোয়াইশ রোডের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- বায়েজিদ বোস্তামী থানার ট্যানারি বটতলা এলাকার মো: আসিফ (২৫) এবং হাটহাজারীর ১ নম্বর পাহাড়তলী এলাকার সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)।
পুলিশ জানায়, অস্ত্রধারীদের ধরতে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের তল্লাশির সময় আসিফের কোমরে একটি বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগাজিনে লোড থাকা দুই রাউন্ড গুলি এবং সাইদুলের পকেটে আরো দুই রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা চট্টগ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। আসিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চাঁদাবাজি, দাঙ্গা, অস্ত্র আইন, সরকারি কর্মচারীদের আঘাত ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। আর আরিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দু’টি মামলা রয়েছে।



