২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট, শুল্ক ও কর বাড়ানোয় দেশের স্টিল শিল্প বড় ধরনের ব্যয়চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে। শিল্প উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও নতুন কর-শুল্ক কাঠামোর কারণে প্রতি টন স্টিল উৎপাদনে অতিরিক্ত ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা শিল্পটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও টিকে থাকার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দেশে বর্তমানে স্টিলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ টন হলেও উৎপাদন সক্ষমতা এক কোটি টনের বেশি। কিন্তু কম চাহিদার কারণে অধিকাংশ কারখানা অর্ধেকেরও কম সক্ষমতায় চলছে। এর মধ্যে নতুন কর ও শুল্কের বোঝা যুক্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরো বেড়ে যাবে।
সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতি টন স্টিলে অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার টাকা ব্যয় যোগ হয়েছে। এর সাথে বন্দর চার্জ, পরিবহন ব্যয়, রিভার ডিউজ ও অন্যান্য পরিচালন খরচ মিলিয়ে আরো সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি বাজেটে কাঁচামাল, স্ক্র্যাপ, ফেরো-অ্যালয়, রিফ্র্যাক্টরি সামগ্রী ও স্পেয়ার পার্টসের ওপর বাড়তি ভ্যাট-শুল্ক আরোপ করায় নতুন করে আরো দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা ব্যয় বাড়বে।
শিল্প মালিকদের মতে, সরাসরি উৎপাদন ব্যয়ের পাশাপাশি কম চাহিদা, ব্যাংক ঋণের সুদ, স্থায়ী খরচ এবং ওভারহেড ব্যয়ের কারণে পরোক্ষ চাপও বাড়ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে প্রতি টন স্টিলে অতিরিক্ত ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় যুক্ত হতে পারে।
বিএসএমএ সরকারের প্রতি প্রস্তাবিত অতিরিক্ত কর-শুল্ক প্রত্যাহার, টার্নওভার ট্যাক্স কমানো এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, সড়ক, সেতু, মেট্রোরেল, বন্দর ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়লে স্টিলের চাহিদা বাড়বে এবং শিল্পখাত আবারও গতি ফিরে পাবে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা, কর-শুল্কের এই অতিরিক্ত চাপ বহাল থাকলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার প্রভাব শেষ পর্যন্ত নির্মাণ খাত ও ভোক্তা পর্যায়েও পড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। বিজ্ঞপ্তি।



