জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশন

রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণ বিশ্বের কাছে ভালো বার্তা গেছে : ডা: তাহের

Printed Edition
নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকায় ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের : নয়া দিগন্ত
নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকায় ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হয়ে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলাম। সেখানে সব দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা অংশ নেন। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো সরকারি টিমে শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি রাখা হয়। যা ব্যতিক্রম ছিল। এজন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ। ডা: তাহের বলেন, সরকারি প্রতিনিধিদলের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকার মাধ্যমে বিশে^র কাছে একটি ভালো বার্তা গেছে। একটি বিষয় খুব ভালোভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ যে মেজর ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ আছে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, রাষ্ট্রের বড় বড় সমস্যা সমাধানে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাপারগুলোতে দলমত নির্বিশেষে আমরা যে ঐক্যবদ্ধ আছি তা সারা বিশে^র কাছে প্রমাণিত হয়েছে। তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।

গতকাল সকালে ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দেয়ার উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি ২২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। ডা: তাহের বিমানবন্দরে অবতরণ করলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মাদ শাহজাহান, ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বহু নেতাকর্মী এ সময় বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা জানান।

ব্রিফিংয়ে ডা: তাহের বলেন, জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনকে কেন্দ্রে করে সেখানে অনেকগুলো কর্মসূচিতে আমরা অংশগ্রহণ করেছি। বিভিন্ন গ্রুপের সাথে আমাদের বৈঠক হয়েছে। বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী গ্রুপ যারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে তাদের সাথে আমাদের বৈঠক হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠকে সরকার পররাষ্ট্র উপদেষ্টার জায়গায় আমাকে প্রতিনিধি করে। সেখানে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব ও কথা বলার সুযোগ হয়েছে আমার।

এ ছাড়াও সাইড লাইনের অনেক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। প্রবাসীদের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা ও আমরা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছি। জামায়াতে ইসলামী প্রবাসীদের ভোটার করার অধিকার জানিয়ে আসছিল। সেখানে প্রবাসীদের ভোটার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সরকারও সেটি গ্রহণ করে উদ্যোগ নিয়েছে। যেভাবে হোক তারা যেন এবার ভোট দিতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রবাসীদের জন্য সরকারের বিনিয়োগের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। আলাদা প্যারালাল বডি তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বাইরে নিউ ইয়র্ক এবং বিভিন্ন রাজ্যে থাকা বাংলাদেশীরা আমাকে সংবর্ধনা দেয়। সেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। বিশাল সমাবেশ হয়। সেখানে প্রবাসীরা দেশের রাজনীতি এবং কারা ক্ষমতায় যাবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে দেখলাম ডাকসু-জাকসু নির্বাচনের প্রভাব শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশে^ থাকা বাংলাদেশীদের মধ্যে পড়েছে।