- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন
- পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পাবে ৫০০ কোটি করে
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) ২০৩০ অর্জনের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অতিরিক্ত দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পাঠানো ডিও লেটারে পরিকল্পনা কমিশনের ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাত থেকে অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মোট বরাদ্দ দাঁড়াবে পাঁচ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের জন্য ৫০০ কোটি টাকা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
গত ১৬ আগস্ট পাঠানো চিঠিতে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সরাসরি জনগণের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার সাথে যুক্ত। স্থানীয় জনগণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সহায়তা খাতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীও এ খাতে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে অভিমত দিয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে বরাদ্দ রয়েছে তিন হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা যুক্ত হলে মোট বরাদ্দ হবে পাঁচ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। চাহিদা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ কোটি, উপজেলা পরিষদের জন্য ৫০০ কোটি, পৌরসভার জন্য ৫০০ কোটি, জেলা পরিষদের জন্য ৫০০ কোটি এবং সিটি করপোরেশনের জন্য ৫০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যমান ৯১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার সাথে বাড়তি অর্থ যোগ হলে মোট বরাদ্দ হবে এক হাজার ৪১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ ৮০৮ কোটি ৫০ লাখ থেকে বেড়ে হবে এক হাজার ৩০৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পৌরসভার ৫০৪ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়াবে এক হাজার ৪ কোটি টাকা।
জেলা পরিষদের বিদ্যমান ৫৮৮ কোটি টাকার সাথে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি যুক্ত হলে মোট বরাদ্দ হবে এক হাজার ৮৮ কোটি টাকা। আর সিটি করপোরেশনের ৪৪১ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৯৪১ কোটি টাকা।
চিঠিতে মন্ত্রী বলেন, বাড়তি অর্থ পাওয়া গেলে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের চাহিদা পূরণ, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে গতি আসবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং এসডিজি ২০৩০ অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।



