ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষে রাউন্ড অব ৩২-এর অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। নকআউটের চতুর্থ ম্যাচে কাল সকাল ৭টায় মুখোমুখি লড়াইয়ে নামবে ইউরোপের শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডস ও আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল মরক্কো। দুই দলই গ্রুপ পর্বে দারুণ ফুটবল খেলে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে ডাচরা ও ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে নকআউটে উঠেছে মরক্কো। এখন আর কোনো ভুলের সুযোগ নেই- জয় মানেই শেষ ষোলো, আর হার মানেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। তাই মন্টেরের এই ম্যাচে শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা ফুটবল প্রেমিদের। বাংলাদেশ সময় কাল সকাল ৭টায় মেক্সিকোর মন্টেরে স্টেডিয়ামে মাঠের লড়াইয়ে নামবে দুই দল।
নেদারল্যান্ডস গ্রুপ ‘এফ’-এ অভিযান শুরু করে জাপানের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে। এরপর সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে টানা দুই জয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে শীর্ষে থেকে শেষ করে। গ্রুপ পর্বে অত্যন্ত ধারাবাহিক ছিল নেদারল্যান্ডস। শক্তিশালী রক্ষণ, দ্রুত আক্রমণ এবং মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা, বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্য নিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলা দলটির কৌশল। আক্রমণে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দারুণ সমন্বয়। সেট-পিসেও নেদারল্যান্ডস সবসময় বিপজ্জনক। লম্বা ডিফেন্ডারদের উপস্থিতি কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে গোলের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
চলমান বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের সম্ভাব্য দাবিদার রোনাল্ড কোম্যানের দল। তবে কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি তারা। ১৯৭৪, ১৯৭৮ এবং ২০১০ সালে রানার্সআপই সবচেয়ে বড় অর্জন ডাচদের। এ ছাড়া ১৯৯৮ সালে চতুর্থ এবং ২০১৪ সালে তৃতীয়।
এই ম্যাচের আগে গুঞ্জন ছিল ডেনজেল? ডামফ্রিস এবং ব্রায়ান ব্রোবি চোট নিয়ে ভুগছেন। তবে সব সংশয় দূর করে মরক্কোর বিপক্ষে খেলার জন্য প্রস্তুত এই জুটি। লেফট-ব্যাকে প্রথম একাদশে ফিরতে চলেছেন মিকি ফন দে ভেন। বাদ পড়তে পারেন নাথান আকে। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে খেলা দল থেকে সম্ভবত এটাই একমাত্র পরিবর্তন হতে পারে ডাচ একাদশে।
অপরদিকে গত কয়েক বছরে নিজেদের বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক দলে পরিণত করেছে মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার পর থেকে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে অনেক গুণ। এবারো তারা সংগঠিত ফুটবল খেলেই নকআউটে এসেছে। শক্তিশালী রক্ষণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ দলীয় খেলা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণই তাদের প্রধান অস্ত্র। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের পেছনে থেকে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে জায়গা পেয়েছে মরক্কো। আটলাস লায়ন্সরা ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর স্কটল্যান্ডকে ১-০ ও হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অফ ৩২-এ জায়গা করে নেয়।
মোহামেদ ওয়াহবির দল মরক্কোও বিশ্বকাপ জেতেনি। তবে তারা ২০২২ সালের টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। যা এই প্রতিযোগিতায় তাদের সর্বকালের সেরা সাফল্য ছিল। ডাচদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে একাদশ কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। নুসাইর মাজরাউই, ইসা দিওপ, আইয়ুব বুয়াদ্দি এবং আজ্জেদিন উনাহি শেষ-৩২ পর্বের এই লড়াইয়ের জন্য প্রথম একাদশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। ডিফেন্ডাররা খুব কম জায়গা দেন এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্ট করতে দক্ষ। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন ইসমাইল সাইবারি। একাদশে আছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি এবং ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ। মরক্কোর মাঝমাঠের খেলোয়াড়রাই বল পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সুযোগ পেলেই উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবে আফ্রিকার দলটি। ফলে মাঝমাঠের লড়াই এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সবমিলিয়ে এটি হতে পারে শেষ ৩২ পর্বের সবচেয়ে কৌশল নির্ভর ম্যাচগুলোর একটি। নেদারল্যান্ডসের আক্রমণভাগ ও বলের দখলের ফুটবলের বিপরীতে মরক্কোর শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণ- এই দ্বৈরথই ম্যাচের মূল আকর্ষণ।
নেদারল্যান্ডস এবং মরক্কো এর আগে তিনবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ১৯৯৪ সালে প্রথম দেখায় ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল নেদারল্যান্ডস। ১৯৯৯ সালের ২৮ এপ্রিল দ্বিতীয় দেখায় প্রীতি ম্যাচে ১-২ গোলের জয় মরক্কোর। আর শেষ দেখায় ২০১৭ সালের ৩১ মে আবার মরক্কোকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল ডাচরা।



