দেশের ৪ বিভাগে বন্যার শঙ্কা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারী বৃষ্টিতে দেশের চার বিভাগে স্বল্প মেয়াদে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ বলছেন, উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগের নি¤œাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদে বন্যা হতে পারে।

এ ছাড়া আগামী তিন দিনও চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের উজানে (ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ) ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর পরবর্তী দুই দিন মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথাও বলছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। অন্য দিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গতকাল বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে এবং উজানে ভারতের মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও অরুনাচল প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে বান্দরবানে সাঙ্গু ও লামায় মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সকাল ৯টায় বান্দরবান পয়েন্টে সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ৩৪৮ সেন্টিমিটার। অন্য দিকে লামা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানি বেড়েছে ১৭৩ সেন্টিমিটার।

চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যা সতর্কতা সঙ্কেত দিয়ে বলা হয়েছে আগামী তিন দিন চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সিলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার বেশ কিছু স্থানে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্প মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিষয়ে বলা হয়, আগামী তিন দিন সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বল্প মেয়াদে বন্যার শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও আগামী তিন দিন দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।

অন্য দিকে রংপুর বিভাগে তিস্তা নদীর পানিও আগামী তিন দিন দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে স্বল্প মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে। এ ছাড়া ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ৭২ ঘণ্টায় তা বেড়ে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র তথ্য দিয়েছে।

এ দিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা সারা দেশে অতি ভারী বর্ষণের সাথে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। টানা অতি ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে স্মরণকালের ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগর।