মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচন ঘিরে রাজধানী পার্শ্ববর্তী এ জেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। কে হচ্ছেন বিস্তীর্ণ পদ্মাঘেঁষা এই জনপদের নির্বাচিত কাণ্ডারী। আসন্ন নির্বাচনে (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ী) আসনে জমা দেয়া সাত প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির মাজেদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কে এম বিল্লাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিনুল ইসলাম ,জাতীয় পার্টির নোমান মিয়া, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আশিক মাহমুদ।
আসনটিতে বিএনপির পক্ষে জেলা আহ্বায়ক ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তার আকস্মিক অসুস্থতায় পরে দলের নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এলাকায় তার জনপ্রিয়তা থাকলেও ভোটের মাঠে তিনি নতুন। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে ভাগ বসাতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে জোট সমর্থিত প্রার্থী। এতে করে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে বেশ বেগ পেতে হতে পারে বিএনপির। নির্বাচনে হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এদিকে জামায়াত ও এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, এ আসনে জামায়াত-এনসিপি জোট হলে সেক্ষেত্রে ভোটের হিসেব-নিকাশে অনেকটাই নতুন মেরুকরণ দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন জোটের কর্মী-সমর্থকেরা। তবে এখন পর্যন্ত এ আসনে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থীতার কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিমকে মনোনীত করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিম ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সংসদীয় এ আসনে তার পরিচিতি রয়েছে। একইসাথে এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর প্রতিপক্ষ হিসেবে এখন পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই মাঠে সরব রয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের পর সদ্য গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সমন্বয়ক বিশিষ্ট ব্যাংকার ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি শিক্ষক মাজেদুল ইসলাম এই আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। লৌহজংয়ের সন্তান ও টঙ্গীবাড়ীতে বেড়ে ওঠা এনসিপির এই প্রার্থী ভোটের মাঠে ইদানিং অনেকটাই পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তিনিও নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানসহ গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এর আগে আসনটি থেকে পরপর দু’বার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মিজানুর রহমান সিনহা নির্বাচনে জয়লাভ করেন। বিএনপির দুর্গখ্যাত জেলার এ আসনে সবসময় লড়াই হয়েছে ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকের মধ্যে। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বারবার বিএনপি প্রার্থী এ আসনে জয়লাভ করে। বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহা মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীরা মনে করছেন, আসনটিতে একাধিক মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভেদ ঘুচিয়ে একই কাতারে এনে দল গোছানোটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, ৪৭ বছর ধরে আমি জাতীয়তাবাদী দলের সাথে সম্পৃক্ত। আন্দোলন সংগ্রামে, সুখে-দু:খে সবসময় আমি আমার নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জনগণের পাশে ছিলাম এবং থাকব। তাই ভোটার ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমি প্রার্থী হয়েছি। আশা করছি সংসদেও যেতে পারব।
মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের চূড়ান্ত প্রার্থীতা বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির দলীয় প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম (রোববার) নয়া দিগন্তকে জানান, এখন পর্যন্ত এ আসনে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থীতার কোনো ঘোষণা জানা যায়নি। তবে নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ আসলে পরিবর্তিত কিছু চায়। আগের গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারার ওপর এখন আর মানুষের আস্থা নেই। নতুন দল হলেও সবাই আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলনের মাধ্যমে যে পরিবর্তন হয়েছে সেটি ধরে রাখতে হলে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।



