খুলনার ৬টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত

Printed Edition
বাবু কৃষ্ণ নন্দী ,আমির এজাজ খান, নজুরুল ইসলাম মঞ্জু,  জাহাঙ্গীর হোসাইন,  রুহিন হোসেন প্রিন্স , রফিকুল ইসলাম বকুল ,অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, আজিজুল বারী হেলাল, মাও. কবিরুল ইসলাম , হাফেজ মাও. ইউনূস আহামাদ, মিয়া গোলাম পরওয়ার, আলি আজগর লবি, মনিরুল হাসান বাপ্পী, মাও. আবুল কালাম আজাদ
বাবু কৃষ্ণ নন্দী ,আমির এজাজ খান, নজুরুল ইসলাম মঞ্জু, জাহাঙ্গীর হোসাইন, রুহিন হোসেন প্রিন্স , রফিকুল ইসলাম বকুল ,অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, আজিজুল বারী হেলাল, মাও. কবিরুল ইসলাম , হাফেজ মাও. ইউনূস আহামাদ, মিয়া গোলাম পরওয়ার, আলি আজগর লবি, মনিরুল হাসান বাপ্পী, মাও. আবুল কালাম আজাদ

এরশাদ আলী খুলনা ব্যুরো

আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রচার প্রচারণায় খুলনা সরগরম হয়ে উঠেছে। প্রার্থীরা প্রচারণামুখী আর সব স্থানেই চলছে নির্বাচনী আলোচনা। ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড, পোস্টার টানানোসহ মাঠের প্রচারণায় বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য দলগুলোর ময়দানে উপস্থিতি নজরে পড়ছে না। এনসিপি, সিপিবি নেতৃত্বাধীন বামজোটসহ কিছু দল এখনো সব আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত। জানা গেছে জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ দুইটি দল খেলাফত মজলিশ ও ইসলামী আন্দোলনের টার্গেট খুলনা-৪ আসন।

খুলনা-১ আসন : দাকোপ-বটিয়াঘাটা আসনে জামায়াতের প্রার্থী নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। দলের বটিয়াঘাটা উপজেলা আমির মাওলানা আবু ইউসুফ ওই আসনের প্রার্থী ঘোষণার আগে থেকেই দলীয় নির্দেশনায় এলাকায় প্রচারণায় নিয়োজিত ছিলেন। এখন দৃশ্যত ওই আসনের হিন্দু ভোটারদের আধিক্য বিবেচনায় নিয়ে ফের দলীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ডুমুরিয়া উপজেলা সনাতনী কমিটির সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াতের ঐতিহ্য অনুযায়ী মাওলানা আবু ইউসুফ সিদ্ধান্ত মেনে দলের নতুন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় মাঠে সরব রয়েছেন।

অপর দিকে বিএনপি এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল। গত বৃহস্পতিবার সব জল্পনা শেষে সাবেক জেলা আহ্বায়ক আমির এজাজ খানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ আসনে সিপিবির হয়ে দাকোপ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বাবু কিশোর রায়, ইসলামী আন্দোলনের বাংলাদেশের মাওলানা আবু সাঈদ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা ইমদাদুল হক এবং স্বতন্ত্র হিসেবে বর্তমানে এলজিইডির কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার অনুপ মণ্ডল প্রার্থী হবেন।

খুলনা-২ আসন : (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনটি জেলার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। জেলা প্রশাসনের সব অফিসসহ ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রগুলো এ আসনের আওতাধীন। এ আসন একসময় মুসলিম লীগের এবং পরে বিএনপি প্রভাবিত বলে বিবেচিত হয়। এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির হয়ে নির্বাচিত হওয়া নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে দলটির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বছর তিনেক আগে তাকে দলের সব পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। প্রার্থী ঘোষিত হওয়ার পর থেকে দলে তার বিরোধীদের মারভঞ্জন করতে বেশ কাঠখড় পুড়িয়ে অগ্রসর হতে হচ্ছে। অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে মহানগর শাখার সেক্রেটারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলালকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুফতি আমানুল্লাহ, খেলাফত মজলিশের অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স স্বস্ব দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

খুলনা-৩ আসন : খালিশপুর-দৌলতপুর আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী একজনই। কেন্দ্রের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। এখনো পর্যন্ত প্রচার প্রচারণায় এ দুইজনকে ময়দানে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। তা ছাড়া সেখানে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আবদুল আওয়াল, খেলাফত মজলিশের এএফএম হারুণ অর-রশিদ ও সম্মিলিত বাম জোটের (বাসদ) জনার্দন দত্ত নান্টু।

খুলনা-৪ আসন : রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদা আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকায় সক্রিয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা কবিরুল ইসলামও এ আসনে লম্বা সময় ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। আসনে আরো প্রার্থী আছেন খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ। এখানে সম্মিলিত বাম জোটের পক্ষে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের একজন প্রার্থী দেয়া হবে।

খুলনা-৫ আসন : জাতীয় নির্বাচনের স্পটলাইট যে কয়টি আসনে থাকবে তার একটি খুলনা-৫ ডুমুরিয়া ফুলতলা আসন। কারণ এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দলের প্রার্থী। তিনি ২০০১ সাল থেকে এলাকায় সক্রিয়। সেখানে তার বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি আলী আসগর লবি। এ আসনেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারের সংখ্যাধিক্য রয়েছে। ফলে তাদের সমর্থন পেতে দুই প্রার্থীই নানা কৌশল প্রয়োগ করছেন। খেলাফত মজলিশের মুফতি আবদুল জব্বার আজমী, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আবদুস সালাম ও সিপিবির অ্যাডভোকেট চিত্তরঞ্জন গোলদার প্রার্থী হয়েছেন।

খুলনা-৬ আসন : পাইকগাছা কয়রায় বিএনপি প্রার্থী করেছে দলের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী। দলের এলাকার কর্মী-সমর্থকরা দাবি করছিলেন রূপসা উপজেলার বাসিন্দা বাপ্পীর পরিবর্তে কয়রার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম অথবা পাইকগাছার আবদলি মজিদকে প্রার্থী করার। ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে। তিনি ২০১৮ সাল থেকে এলাকায় সক্রিয়। তিনি কয়রা উপজেলার বাসিন্দা এবং উপজেলাটিকে জামায়াতের স্ট্রংহোল্ড ধরা হয়। এ আসনে খেলাফত মজলিশের মাওলানা সোলায়মান হোসেন নোমানী, ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ আসাদুল্লাহ গালিব এবং সিপিবির আবদুল হান্নান অথবা অ্যাডভোকেট প্রশান্ত মণ্ডল প্রার্থী হবেন।

বাংলাদেশ জাসদ নেতা রফিকুল ইসলাম খোকন জানান, তারা কয়েকটি বামপন্থী দল মিলে গণতান্ত্রিক ঐক্যজোট করে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। শিডিউল ঘোষণার আগে চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তিনি জোটের পক্ষে খুলনা-১ আসনে প্রার্থী হবেন। এনসিপির খুলনার সংগঠক আহমদ হামীম রাহাত জানান, দলের প্রার্থী হওয়ার জন্য ছয়টি আসনে ২৮ জন ফর্ম তুলেছেন। এখন যাচাই-বাছাই চলছে।