নয়া দিগন্ত ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকার এসে ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ভারতের যে আগ্রাসী একটা ভূমিকা ছিল সব জায়গায়, সেখান থেকে স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলা যাচ্ছে।
গতকাল ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শিরোনামে এক ‘পলিসি ডায়ালগে’ আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা বলেন, আমার নিজের কাছে মনে হয় বাংলাদেশে এখন বাকস্বাধীনতা সবার আছে, শুধু সরকারের যারা আছেন, তাদের নেই। এটা প্রতিনিয়ত অনুভব করি।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারের সমালোচনা নির্দয় পর্যায়ে চলে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন ১০টা জিনিসের মধ্যে সরকার যদি চারটা জিনিস করে, সেগুলো স্বীকার করে বাকি যে ছয়টা করতে পারেনি, সেটার জন্য সমালোচনা করলে সমস্যা নেই। কিন্তু একদম কিছুই দেখবেন না, কিছুই হয়নি। কিছুই হয়নি যখন আপনারা রেসপন্সিবল পজিশনে থাকা লোকজন বলেন, তখন খুব দুঃখ লাগে যে আসলে কি সৎভাবে সমালোচনা করেন?
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের সরকারের সাফল্য নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু আপনাদের কি কিছু জিনিস কখনো চোখে পড়েনি, এই যে এই সরকার এসে ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। ভারতের যে আগ্রাসী একটা ভূমিকা ছিল সব জায়গায়, সেখান থেকে স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলতে পারছেন ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে- এটা আমাদের কোনো অর্জন না।
সাইবার বুলিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আপনারা বলেন বুকে হাত দিয়ে, বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং কার বিরুদ্ধে হয়েছে, আমার বিরুদ্ধে হয়েছে।...শুধু চারটা ডেডিকেটেড ভিডিও করা হয়েছে আমার সমালোচনা করে। আমি ১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, ওভারনাইট (রাতারাতি) আমি ভারতের দালাল হয়ে গেছি। আমার আমেরিকায় বাড়ি আছে, আমার পরিবার অলরেডি চলে গেছে আমেরিকায়। যেই মিথ্যুক, বদমাইশ বা বদমাইশরা এগুলো প্রচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলেছেন?’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘একজন বলে গেলেন যে আমরা কেন পদত্যাগ করি না?...আমাদের অন্তত তিন-চারজন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। এই অন্যায়, আক্রমণ, অন্যায় সমালোচনা, সারাক্ষণ গালাগাল, অশ্লীল, অশ্রাব্য গালাগাল, প্রাণনাশের আশঙ্কা। মানে প্রাণনাশের হুমকি। অবর্ণনীয় জীবন। এই জীবন কে উপভোগ করে? আমাদের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন যে একটা টিম একজন পদত্যাগ করলে আরেকজনের মনোবল নষ্ট হবে, আরো দাবি আসবে। আমরা কোনো কাজ করতে পারব না, কাজ করে যাও। কাজ করে যাচ্ছি। যখন আমাদেরও বলার সময় আসবে, সবকিছু জানবেন। বাংলাদেশে থাকব, সব কিছুর উত্তর দেবো এবং আমার তো নিশ্চয়ই সততা ও আত্মবিশ্বাস আছে।
সিজিএস সভাপতি জিল্লর রহমানের সঞ্চালনায় পলিসি ডায়ালগে আরো বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, ইরাবতীর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মো: মুকতাদির রশীদ প্রমুখ।



