নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ৮৭টি এফডিআর হিসাবে ২৭ কোটি ৭ লাখ ৯৬ হাজার ১২১ টাকা ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৬৬ হাজার ৩৭৬ টাকা ও ১৬ হাজার ৪১৯ ডলার এবং এক কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ১৩টি ওয়েজ আর্নারস বন্ড ফ্রিজ করা হয়েছে।
অপর দিকে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের দু’টি তালাবন্ধ ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ ও ফ্ল্যাটে রক্ষিত মালামাল ইনভেন্টরি করার জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, গতকাল বুধবার দুদকের পৃথক দু’টি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো: আলমগীর এ আদেশ দেন।
এর মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কমিশনের উপসহকারী পরিচালক সাবিকুন নাহার তার হিসাব ফ্রিজের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭ টাকা মূল্যের সম্পত্তি অর্জন করে নিজ দখলে রাখেন। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৯৯ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮৪২ টাকা ও ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৬ ইউএস ডলারের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করেন। এসব অভিযোগে গত বছরের ২ জুন মামলা দায়ের করা হয়। এঅবস্থায় খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, ওয়েজ আর্নারস বন্ড ও এফডিআরগুলো জরুরি ভিত্তিতে ফ্রিজ করা প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, খন্দকার মোশাররফ হোসেন দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মোট ৩৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭ টাকার সম্পদ অর্জনপূর্বক নিজের দখলে রাখেন।
এ ছাড়া তিনি ৭ কোটি ৭২ লাখ ১৮ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের ছদ্মাবরণ করেন। তার নামে এবং ছদ্মনামে পরিচালিত ১৫টি ব্যাংক হিসাবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৯ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৬ মার্কিন ডলার, যা দুদকের তদন্তে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়।
সাবেকমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের তালাবদ্ধ ২ ফ্ল্যাটে রিসিভার প্রবেশের অনুমতি
এ দিকে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের দু’টি তালাবন্ধ ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ ও ফ্ল্যাটে রক্ষিত মালামাল ইনভেন্টরি করার জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতের গত ১২ জানুয়ারির আদেশ অনুযায়ী সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের দু’টি ফ্ল্যাট সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুদকের পরিচালককে (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) ‘রিসিভার’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে, ফ্ল্যাট দু’টি তালাবদ্ধ থাকায় রিসিভারের কার্যক্রম শুরু করা বা সেগুলো ভাড়া দেয়ার উপযোগী করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ফ্ল্যাট দু’টি দখলে নেয়া, রিসিভারের প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ভেতরে থাকা মালামালের ইনভেন্টরি (তালিকা) তৈরির জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ প্রয়োজন। মূলত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে কোনো বাধা ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এই আবেদন করা হয়েছে।



