‘মানুষ শৈশবে যা দেখে, সারা জীবন সেটিকে পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করে,’ বলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বই এবং বই পড়া ছড়িয়ে দিতে তার বাবা কিভাবে তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল তারই স্মৃতিচারণা করছিলেন এই বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
বই পড়া কর্মসূচি সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই যাত্রায় অনেক কষ্ট হয়েছে, অনেকের সাহায্যও পাওয়া গেছে- ব্যক্তিগত, সামাজিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছি। সরকারের বাইরে যে প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সহায়তা দিয়েছে, তার মাঝে একটি প্রতিষ্ঠান বিকাশ।
এই ১২ বছরে আমরা বিকাশের কাছ থেকে চার লাখ বই পেয়েছি যা দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেয়া হয়েছে। এই চার লাখ বই অন্তত ৩২ লাখ ছেলে-মেয়ে পড়েছে। বিকাশ যদি এই অর্থটা অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করতো, তাহলে হয়তো ব্যবসায়িকভাবে একটু লাভবান হতো। কিন্তু সেটা না করে এখানে করাতে বিকাশ লাভবান হয়েছে কি না জানি না, কিন্তু জাতি লাভবান হয়েছে।’
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বইপড়া কর্মসূচি ছড়িয়ে দিতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের অংশীদারত্বের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রীতি সম্মেলনে এক ভিডিওবার্তায় এই মতামত ব্যক্ত করেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর, চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো: মনিরুল ইসলাম (অব:) এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো: আসাদুজ্জামান। এ ছাড়াও, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের শিক্ষকরাসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই প্রীতি সম্মেলনে যোগ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করে যাচ্ছেন, দেশে শিক্ষার মান বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, প্রাথমিক থেকেই শুরু করতে হবে, গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে কারিগরি শিক্ষাতেও।’
তিনি আরো বলেন, ‘মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে বের করে আনতে নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, এই ক্ষেত্রে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই, আশা করি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সামনে আরো অনেক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে।’
এ সময় বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, ‘যাত্রার শুরু থেকেই বিকাশের লক্ষ্য দেশের মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। সেই সাথে একটি দায়িত্বশীল করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা। এই বিশ্বাস থেকেই গত ১২ বছর ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির সাথে যুক্ত রয়েছে বিকাশ।’ বিজ্ঞপ্তি।



