ব্লুমবার্গ ও আলজাজিরা
মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের সমাপ্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য কোনো হামলা চালায়, তাহলে ন্যাটো সামরিক জোট ভেঙে পড়বে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। এরপরই ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী এ সতর্কতা দেন।
এর আগে ভেনিজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায় মার্কিন সেনারা। এরপর লাতিন আমেরিকার আরো কয়েকটি দেশে হামলার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। গত রোববার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২০ দিনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। ভেনিজুয়েলায় এমন নজিরবিহীন হামলা ও ট্রাম্পের হুমকির ডেনমার্কের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ন্যাটোর সমাপ্তি ঘটবে এ কথা জানিয়ে সংবাদমাধ্যম টিভি২-কে ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে আরেকটি ন্যাটো দেশে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন ন্যাটোসহ সবকিছুর সমাপ্তি ঘটবে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে সেটিরও সমাপ্তি হবে।’
গ্রিনল্যান্ড দখল করতে ট্রাম্প সামরিক হামলার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এর মধ্যে তার ভেতরের লোকজন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিভিন্ন উসকানি দিচ্ছেন। এ ছাড়া গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে চাওয়া লুজিয়ানার গভর্নর জেফ লেন্ডরিকে গ্রিনল্যান্ডের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের কোনো স্বাধীন দেশ নয়। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি বিশাল ভূখণ্ড। কিন্তু সেখানে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ফলে গ্রিনল্যান্ডের সরকার ব্যবস্থায় ডেনমার্ক সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র সংক্রান্ত বিষয়গুলো ডেনমার্কই দেখে।
ন্যাটোর ইউরোপীয় নেতাদের যৌথ বিবৃতি
এ দিকে নিউজউইক জানায়, ন্যাটো মিত্রদেশগুলোর ইউরোপীয় নেতাদের একটি নতুন যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের অধীন’ এবং আর্কটিকের এই দ্বীপ ও ডেনমার্কই কেবল তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার অভিপ্রায় বারবার পুনর্ব্যক্ত করার প্রেক্ষাপটে এ অবস্থান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ন্যাটো স্পষ্ট করেছে যে আর্কটিক অঞ্চল একটি অগ্রাধিকার এবং ইউরোপীয় মিত্ররা দায়িত্ব বাড়াচ্ছে। আমরা ও আরো অনেক মিত্র আমাদের উপস্থিতি, কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছি, আর্কটিক অঞ্চলকে নিরাপদ রাখতে এবং প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করতে।
এতে আরো বলা হয়, সুতরাং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সমষ্টিগতভাবে, ন্যাটো মিত্রদের যুক্তরাষ্ট্রসহ- সাথে সমন্বয়ে, জাতিসঙ্ঘ সনদের নীতি রক্ষা করে, যার মধ্যে রয়েছে সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সীমান্তের অঙ্গহানির অগ্রহণযোগ্যতা। এগুলো সর্বজনীন নীতি এবং আমরা এগুলো রক্ষা করা বন্ধ করব না। বিবৃতিতে বলা হয়, ন্যাটো মিত্র হিসেবে এবং ১৯৫১ সালে ডেনমার্কের রাজত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে এই প্রয়াসে যুক্তরাষ্ট্র একটি অপরিহার্য অংশীদার।
গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের অধীন। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড এবং শুধু তারাই ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নেবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর মেৎস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী তুস্ক, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন।



