নবীন চৌধুরী ধামরাই (ঢাকা)
শ্রেণীকক্ষে গণিত শেখান, আর মাঠে ফলান নিরাপদ সবজি। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিষমুক্ত বেগুন চাষ করে ধামরাইয়ে আলোচনায় এসেছেন সানোড়া ইউনিয়নের আব্বাস উদ্দিন স্কুলের গণিত শিক্ষক হান্নান হোসেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে তার তিন বিঘা জমির বেগুনক্ষেত এখন শুধু লাভের উৎস নয়, নিরাপদ কৃষিরও উদাহরণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, চকচকে মালচিং পেপারে ঢাকা সারি সারি বেগুনগাছ। ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে পোকা দমনে ব্যবহার করা হয়েছে সেক্স ফেরোমন ও হলুদ রঙের ইয়েলো ট্র্যাপ। ক্লাস্টার ডেমোনস্ট্রেশনের আওতায় ‘ফিল্ড লিভার’ জাতের বেগুন চাষ করছেন হান্নান।
কৃষক পরিবারের সন্তান হান্নানের কৃষির সাথে পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। বাবার সাথে মাঠে যাতায়াতের সেই আগ্রহই শিক্ষকতার পাশাপাশি তাকে আধুনিক কৃষিতে যুক্ত করেছে। এবার তিন বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষে জমি প্রস্তুত, মালচিং পেপার, বীজ ও ট্র্যাপসহ খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে ক্ষেত থেকেই প্রতি কেজি বেগুন ১১০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। মৌসুমে অন্তত চার লাখ টাকার বেগুন বিক্রির প্রত্যাশা তার।
হান্নানের ক্ষেতে নিয়মিত পাঁচ-ছয়জন শ্রমিক কাজ করছেন। তার সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকরাও কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, হান্নান আধুনিক কৃষির একটি উদাহরণ। কৃষি বিভাগ তাকে কারিগরি ও মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে। তার মতো শিক্ষিত ও আগ্রহী মানুষ কৃষিতে যুক্ত হলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষির আধুনিকায়নও ত্বরান্বিত হবে।
হান্নানের উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, প্রচলিত কৃষির বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করেও একই জমিতে উৎপাদন ও আয় বাড়ানো সম্ভব।


