বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, সদ্য চালু হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দুই দিনে (১ ও ৪ জানুয়ারি) গ্রাহকরা ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। একই সময়ে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত জমা পড়েছে। এই লেনদেনকে গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গভর্নর। সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ও নুরুন নাহার, নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন খান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আইয়ুব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকরাও এতে অংশ নেন।
গভর্নর বলেন, সাধারণভাবে একটি নতুন ব্যাংক চালু করতে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে মাত্র দুই মাসের মধ্যে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই), ক্যাপিটালাইজেশন, সাইনবোর্ড স্থাপন এবং লেনদেন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। নতুন ব্যাংক রেজ্যুলেশন অর্ডিন্যান্সের আওতায় ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ব্যাংক রেজ্যুলেশন স্কিম জারি হয়েছে এবং সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমানতকারীদের সাথে লেনদেন চলছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই স্বতন্ত্র পরিচালক, একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একজন ব্যাংকার ও একজন আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করা হবে।
দুই দিনের লেনদেনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে গভর্নর জানান, ওই সময়ে মোট ১৩ হাজার ৩১৪টি উত্তোলন হয়েছে। এতে মোট উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি উত্তোলন হয়েছে এক্সিম ব্যাংক থেকে ৬ হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক ৬৬ কোটি টাকা তুলেছেন। তবে একই সময়ে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত জমা পড়েছে। নেট হিসাবে পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গভর্নর জানান, সামনে দু’টি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি হলো পাঁচটি ব্যাংকের জন্য সমন্বিত আইটি সিস্টেম চালু করা, যার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টিম কাজ করছে। অন্যটি হলো অতীতের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক অডিট। তবে দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তারা যেন নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাঁচ ব্যাংকের দুরবস্থার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুধু ব্যাংক কর্মকর্তা নয়, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কেউ জড়িত থাকলেও বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে। ফরেনসিক রিপোর্টে জানা যাবে টাকা কিভাবে, কোনো হিসাবে গেছে এবং কারা সুবিধাভোগী। তিনি স্পষ্ট করেন, কাউকে অকারণে ছাঁটাই করা হবে না, তবে অনিয়মে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না।
কর্মীদের মূল্যায়ন ও বিশেষ সুবিধা
কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুরুতে ২০টি এনবিএফআই বন্ধের উদ্যোগ নিলেও ১১টি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। এতে সন্তুষ্ট হয়ে সেগুলোর সৎ ও যোগ্য কর্মীদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১২ হাজার কর্মীর মধ্যে সৎ ও দক্ষদের মূল্যায়নের আশ্বাস দেন গভর্নর।
এ দিকে ক্যান্সার ও কিডনি ডায়ালাইসিসে আক্রান্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে পুরো টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেয়া হবে। অ্যাকাউন্টধারী নিজে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানান গভর্নর। সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান আইয়ুব ভূঁইয়া জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে এবং শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে।



