চট্টগ্রামের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের সময় বৃদ্ধির দাবি

সময় ১ বছর বৃদ্ধি দাবি বিএইচআরএফের

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা ফাইলিংয়ের মেয়াদ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। জনস্বার্থে ট্রাইব্যুনালে মামলা ফাইলিংয়ের সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে চট্টগ্রাম জেলায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের সময়সীমা আরো এক বছর বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন- বিএইচআরএফ ।

বিএইচআরএফ চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খান, মহাসচিব ও চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহ্সানসহ সংস্থার নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে সরকারের আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

বিবৃতিদাতারা বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা এবং এখনো ভুল নামজারি ও খতিয়ান সংশোধন সংক্রান্ত বিরোধ মাত্রাতিরিক্ত ও সীমাহীন। ’২৪ এর জুলাই আন্দোলনসহ সময়সীমা সংক্রান্ত ঘোষণা সম্পর্কে জনগণ অবহিত না হওয়ায় এবং এ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক কার্যকর কোনো কর্মসূচি না থাকায় জনসচেতনতার অভাবে বিপুলসংখ্যক এলএসটি সংক্রান্ত ভূমি বিরোধের মামলা এখানো দায়ের করা সম্ভব হয়নি। বিবৃতিদাতারা আরো বলেন, সরকারের আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ১৪৫ক ধারার ১ ও ২ উপধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দুই বছরের জন্য চট্টগ্রামে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। যার মেয়াদ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। অথচ চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী এবং ভূ-প্রাকৃতিকভাবে অনেক বড়। জেলার শিক্ষিত-অশিক্ষিত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করার জন্য সময়সীমা সম্পর্কে অবগত নন। অধিকন্তু প্রচার প্রচারণা কম হওয়ায় বহু মানুষ নির্ধারিত সময়ে মামলা ফাইলিং করতে পারেননি। এ পরিস্থিতিতে এই ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের সময়সীমা ন্যূনতম আরো এক বছর বৃদ্ধি করা প্রয়োজ

উল্লেখ্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় জমি রেকর্ড সংশোধনের মামলা দায়ের এবং ওই মামলা শেষ হওয়া সময়সাপেক্ষ বিষয়। এজন্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের আবির্ভাব হয়েছিল। এ ট্রাইব্যুনালে রেকর্ড সংশোধন তুলনামূলক সহজ। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে যে মামলা দায়ের হতো সেখানে অনেক রকম পিটিশন দেয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে শুধুমাত্র রেকর্ড সংশোধন বিষয়ে ফোকাস করা হয়। নানা রকম পিটিশন দেয়ার সুযোগ নেই। যার কারণে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ভূমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য উপযোগী স্থান বিধায় অন্তত আরো এক বছর মামলা দায়েরের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হোক।

উল্লেখ্য, ভূমির মূল মালিক এবং দখলদার হওয়া সত্ত্বেও যদি খতিয়ানে মালিকীয় ও দখলীয় ভূমির মালিকানা অন্যের নামে লিপিবদ্ধ হয় বা খতিয়ানে করণিক ভুল থাকে তখন ভূমি অফিসে আবেদন এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।

বিবৃতিদাতারা আরো বলেন, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ভূমিবিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তবে এর প্রয়োগে কিছু সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে- মামলার দীর্ঘসূত্রতা, আপিল প্রক্রিয়ার জটিলতা, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব, পুরনো ভূমি জরিপ এবং রেকর্ডের বিভিন্ন ত্রুটি। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি, জনবল নিয়োগ এবং আপিল প্রক্রিয়া সহজ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।