রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উঠান বৈঠক, হাট-বাজারে গণসংযোগ, পথসভা ও দলীয় বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকরা। প্রায় চার লাখ ১৪ হাজার ৮৪৩ ভোটারের এই আসনে ভোটের শেষ মুহূর্তে কার পাল্লা ভারী হবে- তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা। এ আসনে বিএনপি, ১১ দলীয় ঐক্যজোট, জাতীয় পার্টি ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটারদের মতে, মূল লড়াইটা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের মধ্যে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ভিপি আইনুল হক নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করছেন। স্থানীয় সমস্যা ও মানুষের প্রত্যাশার কথা শুনে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করছেন তিনি। তবে দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে দলটির ভেতরে কিছুটা অভ্যন্তরীণ বিভক্তির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামছুল ইসলাম বলেন, শুরুতে কিছুটা টানাপড়েন থাকলেও বর্তমানে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করছেন।
অন্য দিকে, এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা: শায়েখ আব্দুস সামাদ দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। পরে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রতিনিধি মুফতি আব্দুর রউফকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি জামায়াত ও জোটভুক্ত দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে গ্রামভিত্তিক সভা, পথসভা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জোটের পক্ষে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির আলী মর্তুজা ও তাড়াশ উপজেলার আমির সাকলায়েন বলেন, মানুষ এখন মিথ্যা আশ্বাস নয়, বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চায়। আমরা সরাসরি ভোটারদের কথা শুনছি এবং ক্ষমতায় গেলে সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করছি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো: ফজলুল হক ডনু এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াস রেজা রবিন নির্বাচনে অংশ নিলেও মাঠপর্যায়ে তাদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে ভোটের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



