প্রযুক্তি ডেস্ক
বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানায় পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপচয় রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট বিল্ড’।
বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে টেকসই উৎপাদনের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত নানান চাপ মোকাবেলা করছে দেশের পোশাক খাত। এই বাস্তবতায় কারখানাগুলোর সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের এই প্রযুক্তির লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়ের কোনো গ্যাস বা বিদ্যুৎ সঙ্কট সমাধান করা নয়; বরং কারখানার ভেতরের নিখুঁত তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কর্তৃপক্ষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা। এআই প্রযুক্তি কারখানাগুলোকে সম্পদের সঠিক ব্যবহার আরো স্পষ্টভাবে বুঝতে এবং দ্রুত অদক্ষতা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। ফলে সীমিত সম্পদের মধ্য থেকেই সর্বোচ্চ কার্যকর উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
এই উদ্যোগের মূল আকর্ষণ হলো তাদের এআইভিত্তিক পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ‘পিউর ফ্লো’। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি মিটার, আইওটি সেন্সর, বর্জ্যপানি শোধনাগার (ইটিপি), পানি শোধনাগার (ডব্লিউটিপি), পিএলসি ও স্কাডা ব্যবস্থা এবং ল্যাবরেটরির বিভিন্ন তথ্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হয়। বিশেষ করে ডাইং, ওয়াশিং ও অন্যান্য ভেজা প্রক্রিয়ার কারখানগুলোতে এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এসব উৎপাদনে পানি, রাসায়নিক এবং জ্বালানি একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বর্তমানে ‘স্মার্ট বিল্ড’ তাদের এই এআই-ভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সমাধানের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো কারখানার বিক্ষিপ্ত তথ্যগুলোকে এক জায়গায় এনে ব্যবহার উপযোগী উপাত্তে রূপান্তর করা। এর মাধ্যমে হঠাৎ পানির ব্যবহার অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া, নির্দিষ্ট কোনো লাইনে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হওয়া কিংবা ইটিপির কার্যকারিতায় কোনো ঘাটতি দেখা দিলে তা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আরো বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ গার্মেন্ট প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং সংশ্লিষ্ট খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে স্মার্ট বিল্ড। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিজিএমইএ এবং বিটিএমএ-এর মতো সংগঠনগুলো সঠিক কারখানা নির্বাচন ও অগ্রাধিকার-ভিত্তিতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সাথে সরকারি সংস্থাগুলোর সহায়তায় গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সম্ভাব্য সবুজ ও জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা আরো সহজ হবে। পোশাক খাতের টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার এই মেলবন্ধন দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



