শুরুর বড় পতন সামলে দিনশেষে মিশ্র ডিএসই সূচক

পুঁজিবাজারকে স্বচ্ছ ও আধুনিকায়নে বিএসইসির নতুন ওয়েবসাইট

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

ঢাকা পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। রোববারের বড় পতনের রেশ ধরে গতকাল দিনের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ৬৬ দশমিক ৮৩ পযেন্ট পড়ে যাওয়ার পর ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। আর দিনশেষে সূচকটির উন্নতি রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট। ফলে বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর একটি বড় অংশই দিনের শুরুতে হারিয়ে বসা দরের একটি অংশ ফিরে পায়। এমনকি কোনো কোনো কোম্পানির দিনের শুরুতে ক্রেতা না পেলেও দিনশেষে ওই কোম্পানির শেয়ারের কোনো বিক্রেতা ছিল না।

রোববার দেশের দুই পুঁজিবাজারই বড় ধরনের সূচক হারায়। এর মধ্যে ঢাকা স্টকের পতন ছাড়ায় ১০০ পয়েন্টের বেশি। অনুরূপভাবে চট্টগ্রাম স্টক প্রধান সূচকটির প্রায় ২০০ পয়েন্ট হারিয়ে বসে। এরই রেশ ধরে গতকালও দিনের শুরুতে ঢাকা শেয়ারবাজার বড় ধরনের বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে। দিনের শুরুতে এ চাপ কিছুটা সহনীয় থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে এ চাপ তীব্র আকার ধারণ করে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ডিএসইর প্রধান সূচকটির অবনতি ঘটে প্রায় ৬৭ পয়েন্ট। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাজারটি। এ সময় হারানো দরের প্রায় পুরোটাই ফিরে পায় লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও ফান্ডের বেশির ভাগ। এমনকি কোনো কোনো কোম্পানি আগের দিনের হারিয়ে ফেলা দরেরও কিছুটা ফিরে পেতে দেখা যায়।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল দিনশেষে ৮ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। পাঁচ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি বিকেলে লেনদেন শেষে পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ৫৬৭ দশমিক ৪২ পয়েন্টে। তবে একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ২ দশমিক ২৭ ও দশমিক ৫৬ পয়েন্ট। তবে একই সময় চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের আচরণ ছিল ভিন্ন। এখানে দিনের শুরুতে সূচকের বড় পতন ঘটলেও তার খুব বেশি ফিরে পায়নি। বাজারটির তিনটি সূচকেরই বড় পতন ঘটে। এখানে সিএসই সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮২ দশমিক ০৮ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। ১৫ হাজার ১ দশমিক ০৩ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে স্থির হয় ১৪ হাজার ৯১৯ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে। বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৮৯ দশমিক ৬৮ ও ৪৫ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট।

দিনের শুরুতে সূচকের পতনে বাজারগুলো ব্যাপকভাবে গতি হারালেও শেষদিকে তার অনেকটাই ফিরে পায়। এতে ঢাকা শেয়ারবাজারের লেনদেনে কিছুটা উন্নতি ঘটে। বাজারটির গতকাল ৫৭১ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয় যা আগের দিনের চাইতে ২৬ কোটি টাকা বেশি। রোববার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৫৪৫ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে একই সময় ১৭ কোটি টাকা থেকে ১৮ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা দিনের বাজার আচরণে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্রোকার হাউজের প্রধান নির্বাহী নয়া দিগন্তকে বলেন, রোববার বাজারে যেভাবে বিক্রয়চাপ তৈরি হয়েছিল তাতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপকভাবে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। গতকালও দিনের প্রথমভাগে একই আচরণ করে বাজারগুলো। তবে শেষদিকে এসে বিনিয়োগকারীরা সাহসে ভর করে বিক্রয়ের বদলে শেয়ার ক্রয়ের দিকে ঝুঁকলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তার মতে, এ দু’দিন টেক্সটাইল খাতই সবচেয়ে বেশি দরপতনের শিকার ছিল। তবে বাজার আচরণের পরিবর্তন ঘটলে এ খাতটিই ছিল দর ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে।

মঙ্গলবার বাজারের আচরণ কেমন হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রোকার হাউজটির এই শীর্ষ নির্বাহী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এ মুহূর্তে অনেকটা স্থবির বলা যায়। এর ওপর রাজনৈতিক ময়দানে সম্প্রতি যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে তা বাজারকে আরো বেশি অস্থির করে তুলছে। এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেই কেবল বাজার আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।

এ কথার সাথে একই মত প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারীদের অনেকে। গতকাল বাজার যখন বড় ধরনের পতনের শিকার ছিল তখন বিভিন্ন ব্রোকার হাউজে তাদের মধ্যে যে অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল তা থেকে অনেকটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে দেখা গেল যখন বাজার ফের ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করে। নয়া দিগন্তকে তাদের কয়েকজন বলেন, বাজার নিয়ে তাদের যে প্রত্যাশা ছিল এখন আর তা নেই। জ্বালানি সঙ্কটের কারণে দেশের অর্থনীতি এখন অনেকটাই বিপর্যস্ত। এখন যোগ হয়েছে রাজনীতির মাঠের উত্তাপ। তাই সামনের দিনগুলোতে বাজার কেমন যায় তা নিয়ে বেশ সন্দিহান তারা।

এদিকে সাধারণ মানুষ এবং পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনকে আরো সহজ, উন্নত ও কার্যকর তথ্য ও সেবা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে নতুন ও আধুনিক অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চালু করেছে দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ওয়েবসাইটটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের নেতৃত্বে নতুন ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়েছে। কমিশনার (আইসিটি) তানভীর হাবিব রহমান, সিপিএর তত্ত্বাবধানে কমিশনের আইসিটি ডিভিশন এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। ওয়েবসাইট তৈরিতে একটি প্রযুক্তি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তাও নেয়া হয়েছে। নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বিএসইসির আইনকানুন, এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন, প্রেস রিলিজ, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, জনগুরুত্বপূর্ণ অফিস আদেশ, নিবন্ধিত বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের তালিকা এবং আইপিও ও আরপিও প্রসপেক্টাসসহ কমিশন-সংশ্লিষ্ট নানা তথ্য সহজে দেখতে ও সংগ্রহ করতে পারবেন।

বিএসইসি জানিয়েছে, নতুন ওয়েবসাইটের ফলে বিনিয়োগকারী, পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজন ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সেবা-সংক্রান্ত বিষয় আরো দ্রুত ও সহজভাবে জানতে পারবেন। সামগ্রিকভাবে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীবান্ধব সেবার পরিধি সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিএসইসির চলমান ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে নতুন ওয়েবসাইটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে কমিশন।