মুন্সীগঞ্জে নদী দখল করে মাছ শিকার বিপন্ন পরিবেশ ও নৌ চলাচল

Printed Edition
মুন্সীগঞ্জে নদী দখল করে মাছ শিকার বিপন্ন পরিবেশ ও নৌ চলাচল
মুন্সীগঞ্জে নদী দখল করে মাছ শিকার বিপন্ন পরিবেশ ও নৌ চলাচল

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও সদর উপজেলার বিভিন্ন নদীতে মাছ শিকারের নতুন কৌশলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নৌ চলাচল। এ ছাড়া পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর বড় অংশ অবৈধভাবে দখল করে বাঁশ ও জালের স্থায়ী কাঠামো গড়ে তুলেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, নৌযান চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং সাধারণ জেলেরা তাদের জীবিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শতাধিক স্থানে নদীর মধ্যে বাঁশের খুঁটি পুঁতে জালের জটিল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। এসব কাঠামোর মাধ্যমে পুরো নদী কার্যত ঘেরের মতো ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, ডিম ছাড়ার মৌসুমেও নদী অবরোধ করে মাছ ধরা হচ্ছে। ফলে দেশীয় মাছের প্রজাতি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং নদীর জৈববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে বলেন, প্রভাবশালীরা আমাদের নদীতে নামতেই দেয় না। ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

জেলেদের আরো অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু মৎস্য কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই এসব অবৈধ ঘের পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘের থেকে প্রতিদিন লাখ টাকার মাছ ধরা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। এমনকি কয়েকদিন আগে একটি ঘের থেকে একদিনেই প্রায় ২২ লাখ টাকার মাছ শিকার করা হয়েছে বলেও জানান তারা।

পরিবেশবাদীরা বলছে, এভাবে নদী দখল ও অবৈধ মাছ শিকার চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এসব নদী মৃত জলাশয়ে পরিণত হতে পারে। নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ও প্রজনন ব্যবস্থা নষ্ট হলে এর প্রভাব পড়বে পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও অর্থনীতিতে।

এলাকার বাসিন্দারাও নৌযান চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, নদীর ওপর স্থায়ী বাঁশ ও জালের স্থাপনা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণ মিললে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। টঙ্গিবাড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নিগার সুলতানা জানান, প্রয়োজনীয় শ্রমিক না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক অভিযান সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।