মৃত্যুর আগে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা

Printed Edition
মৃত্যুর আগে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা
মৃত্যুর আগে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা

ক্রীড়া ডেস্ক

মৃত্যুর আগে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন, তার পা ফুলে গিয়েছিল এবং তিনি যেন জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন, আদালতে এমন সাক্ষ্য দিয়েছেন তার ম্যাসাজ থেরাপিস্ট নিকোলাস তাফারেল।

২০২০ সালে ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় আর্জেন্টিনায় চলমান মামলায় বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দেন তাফারেল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনের শেষ দিনগুলোতে ম্যারাডোনা বিছানা থেকে উঠতে চাইতেন না, খাবার খেতে চাইতেন না এবং নিজের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতারও যতœ নিতেন না।

তাফারেল জানান, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তিনি তার চিকিৎসকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন এবং নিয়মিত, এমনকি প্রতিদিন তাকে দেখতে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে তার অভিযোগ, বিষয়টি জানানো হলেও তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাননি।

আদালতে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, তার শরীর ফুলে গিয়েছিল এবং তার পা ছিল অত্যন্ত ফোলা। চিকিৎসকেরা তাকে উদ্বিগ্ন না হতে বলেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, এসব উপসর্গ ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।

মৃত্যুর আগের দিন ২৪ নভেম্বর ম্যারাডোনাকে কিছু খেতে ও পান করতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন তাফারেল। কিন্তু ম্যারাডোনা তাকে বলেছিলেন, ‘আমি কিছু চাই না, তাফিতা, এটাই শেষ।’ তার ব্যবহৃত স্প্যানিশ শব্দ ‘ইয়া এস্তা’কে ‘সব ঠিক আছে’ অথবা ‘সব শেষ’ দুইভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়।

পরদিন ২৫ নভেম্বর ২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে মারা যান এ তারকা। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমে যাওয়াকে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে অস্ত্রোপচারও হয়েছিল তার।

মৃত্যুর ঘটনায় সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে বিচার চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অভিযুক্তরা নিজেদের দায় অস্বীকার করেছেন।