মেথির পানি সবার জন্য নয়

Printed Edition

মেথি বীজের নাম শুনলেই অনেকে ভাবেন, এটি যেন এক জাদুকরী উপাদান। হজম ভালো রাখা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, প্রদাহ কমানো থেকে শুরু করে ত্বক ও চুলের যতœ- সব কিছুতেই মেথির কদর রয়েছে। তাই অনেকেই প্রতিদিন সকালে ভেজানো মেথির পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। কিন্তু এই মেথির পানি সবার জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি উপকারের চেয়ে ক্ষতিই ডেকে আনতে পারে।

রক্তে শর্করা কমে গেলে বিপদ : মেথি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং কার্বোহাইড্রেট শোষণ কমিয়ে রক্তে শর্করা হ্রাস করে। তাই যাদের রক্তে শর্করা স্বাভাবিকের নিচে বা যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করছেন, তাদের জন্য মেথির পানি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে হঠাৎ রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে গিয়ে মাথাঘোরা, দুর্বলতা বা অজ্ঞান হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে মেথির পানি একেবারেই পরিহার করা উচিত। কারণ মেথিতে থাকা কিছু যৌগ জরায়ুতে সঙ্কোচন সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে এটি প্রসব ত্বরান্বিত করলেও, শুরুর দিকের মাসগুলোতে এটি অকাল প্রসব বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

থাইরয়েড রোগীদের জন্যও সতর্কতা : গবেষণা বলছে, মেথি থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে থাকা কিছু যৌগ আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়, যা থাইরয়েডের জন্য অপরিহার্য। তাই থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের এই পানি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

পেটের সমস্যা হলে উল্টো ফল : যদিও মেথি হজমে সাহায্য করে, তবু অনেকের ক্ষেত্রে এটি গ্যাস, পেটফাঁপা, ডায়রিয়া বা পেটে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে খালিপেটে ভেজানো মেথির পানি খেলে এই সমস্যাগুলো আরো বেড়ে যায়।

অ্যালার্জি থাকলে সাবধান থাকুন : মেথি শিমজাতীয় পরিবারের অন্তর্ভুক্ত-যার মধ্যে রয়েছে ছোলা, মসুর ডাল ও চীনাবাদাম। তাই যাদের এসব খাবারে অ্যালার্জি আছে, তাদের মেথিতেও একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক বলেই সব উপাদান সবার জন্য ভালো হয় না। মেথির জল খাওয়ার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা, ওষুধের ইতিহাস ও অ্যালার্জির বিষয়টি ভেবে নেয়া জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, তবেই উপকার পাবেন নিরাপদে। ইন্টারনেট।