গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীতে রাজউকের একটি শিল্প প্লটের মালিকানা ও বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘ দিনের দেওয়ানি মামলা চলার মধ্যেই এবার ওই প্লটের রাস্তার জন্য খালি রাখা জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় বিএনপির এক নেতা জায়গাটির একাংশ দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছেন। অবশিষ্ট অংশেও নির্মাণকাজ চলছে।
মামলার নালিশি জমিটি বর্তমানে চারপাশে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা। সেখানে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের সাইনবোর্ড রয়েছে। তবে সীমানার ভেতরে এখনো বড় কোনো স্থাপনা নির্মাণ হয়নি; জায়গাটি অনেকটাই খালি। সেখানে ভবিষ্যতে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের গোডাউন বা ওয়্যারহাউস নির্মাণ করা হবে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জমিটির মালিকানা, বরাদ্দ ও লিজ নিয়ে ২০১২ সাল থেকে গাজীপুরের যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা চলমান। মামলার বাদি মো: ইস্রাফিল মিয়ার দাবি, অধিগ্রহণের আগে থেকেই জমিটি তাদের পরিবারের ভোগদখলে ছিল এবং সেখানে চাষাবাদ করা হতো। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ১৯৬১-৬২ সালে শিল্প জোন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জমিটি অধিগ্রহণ করে। কিন্তু অর্ধশতাব্দীর বেশি সময়েও জমিটি সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি।
বাদিপক্ষের দাবি, অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ তিন কিস্তিতে দেয়ার কথা থাকলেও তারা দুই কিস্তি পেয়েছেন; তৃতীয় কিস্তির অর্থ এখনো ভূমি মালিকদের পরিশোধ করা হয়নি। দীর্ঘ দিনের ভোগদখলকারী ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক হিসেবে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমিটি লিজ দেওয়ার জন্য রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন।
কিন্তু তাদের আবেদন উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগের এক নেতার নিয়ন্ত্রণাধীন মেসার্স রুনি মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের নামে শিল্প প্লটটি বরাদ্দ দেয়া হয় বলে অভিযোগ বাদিপক্ষের। তাদের দাবি, ওই নামে কার্যকর কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছিল না; একটি ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতেই প্লটটি বরাদ্দ নেয়া হয়। বরাদ্দের পরও সেখানে কারখানা স্থাপন বা বাস্তব দখল নেয়া হয়নি।
বাদিপক্ষের অভিযোগ, শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্লট বরাদ্দ নিয়ে পরবর্তীতে তা অন্যের কাছে হস্তান্তর করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগিতায় তাদের পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে রুনি মেটালের নামে জমিটির দখল নেয় বলেও অভিযোগ করেন ইস্রাফিল মিয়া।
পরে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের কাছে জমিটি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয় বলে দাবি তাদের। বর্তমানে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের সীমানাপ্রাচীরের পূর্ব পাশে রাস্তার জন্য অতিরিক্ত জায়গা খালি রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে রাস্তা সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলে যাতে স্থাপনা ভাঙতে না হয়, সে জন্য বিদ্যমান রাস্তার সমপরিমাণ জায়গা ছেড়ে পূর্বপাশে (২২ নম্বর প্লটের পশ্চিমে) বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
তবে তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ওই খালি জায়গা দখলের চেষ্টা শুরু হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম মৃধা ইতোমধ্যে জায়গাটির একটি অংশ দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। অবশিষ্ট অংশেও মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, দখল করা জায়গায় স্থাপিত সাইনবোর্ডে পৈত্রিক সূত্রে জমির মালিকানা দাবি করা হয়েছে। তবে মামলার বাদি ইস্রাফিল মিয়া ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সাইনবোর্ডে যে দাগ ও খতিয়ান নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, তা দখল করা রাজউকের জমির দাগ নয়; বরং পাশের ভিন্ন দাগের তথ্য ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে রাজউকের জমি দখলের বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সালাম মৃধা বলেন, এটি আমাদেরই জমি। সাইনবোর্ডে যে দাগ-খতিয়ান দেয়া হয়েছে, এটিই সেই জমি। এতদিন দখলে না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের দিনে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাধার কারণে আমরা দখলে যেতে পারিনি।
মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নালিশি জমিতে ভবিষ্যতে স্থাপনা নির্মাণ এবং রাস্তার জায়গা দখলের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



